প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
বাউফলে ঢিলেঢালা অভিযান তেঁতুলিয়ায় মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব
আবু রায়হান , উপজেলা প্রতিনিধি ||
ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় নদী-নদী ও সাগরে ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও পটুয়াখালীর বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে ইলিশ নিধনের মহোৎসব। প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত জেলে ট্রলার নদী ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অসাধু জেলেদের জালে মারা পড়ছে মা ইলিশ। প্রশাসনের রহস্যজনক নিবরতার কারণে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশের প্রজননকাল মারাত্মকভাবে অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। সচেতন জেলেদের অভিযোগ, প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তেঁতুলিয়ায় নির্বিচারে মা ইলিশ ধ্বংস করছেন একশ্রেণির সুযোগসন্দানী জেলেরা। এতে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি। কঠোর অভিযান চালানোর দাবি সচেতন মহল ও মৎসজীবীদের। উপজেলা মৎস্যবিভাগের তথ্য বলছে, গত ৮ অক্টোরব থেকে শুরু হওয়া মা ইলিশ রক্ষা অভিযান চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে তেঁতুলিয়া নদীতে নৌ পুলিশ ও মৎস্যবিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত মা ইলিশ শিকারের দায়ে ২৯জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ৩০ হাজার মিটার জাল। তবে তেঁতুলিয়া নদীর চিত্র ভয়াবহ। তেঁতুলিয়া নদীর ধুলিয়া লঞ্চ থেকে বগী তুলাতলা এবং দক্ষিণ চরওয়াঢেল থেকে চর রায়সাহেব পর্যন্ত বিস্তৃণ নদী জুড়ে চলছে ইলিশ নিধনের মহোৎসব। অবাধে শত শত জেলেরা মা ইলিশ শিকারে মেতে উঠেছেন। দেখে মনে হয় ইলিশ ধরার প্রধান মৌসুম চলছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর চরব্যারেট পয়েন্টে শতশত নৌকায় ইলিশ শিকার করতে দেখা যায় জেলেদের। সকাল পেরিয়ে দুপুর ১টার পর্যন্ত বাঁধাহীন ভাবে চলে ইলিশ নিধন। মাছ শিকার নির্বিঘেœ ঘাটে ফিরে যায় অসাধু জেলেরা। তবে এই দীর্ঘ সময় চরব্যারেট এলাকায় কোনো মৎস্য কিংবা নৌ পুলিশের কোনো দল অভিযানে আসেনি। অবাধে মাছ শিকারের বিষয়টি উপজেলা মৎস্য বিভাগকে মুঠোফোনে জানানো হলেও তারা আসেনি।সরেজমিনে দেখা যায়, চরব্যারেট এলাকায় ইলিশ নিধনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় যুবদল নেতা মো. আব্বাস ফরাজী (৩৮)। তার নেতৃত্বে শতশত জেলে ট্রলার নদীতে মাছ শিকারে নামে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ওই যুবদল নেতা আব্বাস। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর ধুলিয়া পয়েন্টে জোট বেঁেধে মাছ শিকারে নামের প্রায় ৫০টি ট্রলার। মা ধরা নিষেধাজ্ঞা অভিযান বাস্তবায়ন করতে সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ধুলিয়া পয়েন্টে টহল দেয়নি মৎস্যবিভাগের কোনো টহল দল। একইদিন দুপুর দেড় টার দিকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াঢেল এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর মোহনায় শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার দেখা যায়। তাদের মধ্যে কোনো ট্রলার থেকে জাল ফেলা হচ্ছে, কোনো ট্রলারে জাল টেনে তোলা হচ্ছে। আবার কেউ মাছ শিকার করে ঘাটে ফিরছেন। নদীর মোহনায় চলছে ইলিশ শিকারের কর্মজ্ঞ। স্থানীয়রা জানান, তেঁতুলিয়া নদীর দক্ষিণ চরওয়াঢেলের মোহনায় সব সময় বেশি ইলিশ ধরা পড়ে। যে কারণে এখানে নিষেধাজ্ঞার সময় টহল জোরদার করা উচিত। তবে এখানে তেমন টহল দেখা যায় না। সকাল ৯টার দিকে একবার কিছু সময়ের জন্য টহল দেয় মৎস্য ও নৌ পুলিশের সদস্যরা। মৎস্যজীবীরা বলছেন,‘ ইলিশের উৎপাদন দিনদিন কমে যাচ্ছে। এ অন্যতম প্রধান কারণ প্রজনন মৌসুমে গণহারে মা ইলিশ শিকার। প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ নিধনের এক মহোৎসব চলছে। মৌসুম ও একশ্রেণির অসাধু জেলেরা দিনে এবং রাতে সমানতালে ইলিশ শিকারের জন্য নদীতে নামেন। প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানের কারণে এসব অসাধু জেলেরা সুযোগ পাচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষা ও ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের কঠোর অভিযান পরিচালনো করা দরকার। তা না হলে ইলিশ প্রজনন মৌসুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. বাবুল ব্যাপারী বলেন,‘ এভাবে ইলিশ রক্ষা করা যাবে না। এ অভিযান হলো চোর পুলিশের অভিযান। একদিকে মাছ শিকার করা হচ্ছে, অন্যদিকে নামমাত্র অভিযান চলছে। এতে কোনো লাভ নেই। কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে, যাতে অসাধু জেলেরা নদীতে নামতে সাহস না পায়।এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ জানান,‘ অভিযান চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূজার নিরাপত্তার নিয়োজিত থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে অভিযান জোরদার করা হবে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম.এম পারভেজ বলেন,‘ আমরা নদীতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছি। তবে বিশাল নদীর এক এলাকায় অভিযান পরিচালনায় গেলে অন্য এলাকায় জেলেরা নদীতে নেমে পড়ে,এতে একটু সমস্যা হচ্ছে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম