প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
দেশের জ্বালানি উৎপাদনে বড় অবদান সিলেটের
সত্যজিৎ দাস, স্টাফ রিপোর্টার ||
দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)। প্রতিষ্ঠানটির দুটি কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টে উৎপাদিত হচ্ছে পেট্রোল,অকটেন,ডিজেল,কেরোসিন ও এলপিজি। অন্যদিকে, দেশে জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ ও ২০৩৫ সালকে লক্ষ্য রেখে দুই ধাপে ৩০০টি গ্যাসকূপ খনন ও পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের পাশাপাশি কনডেনসেট উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের হবিগঞ্জের রশিদপুর কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পদ্মা,মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির ট্যাংকলরি। এসব লরিতে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি লোড করে নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব খরচে এসব জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী,দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যায়। এর মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের দৈনিক সাত হাজার ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতাসম্পন্ন দুটি প্ল্যান্টের জন্য বরাদ্দ রয়েছে চার হাজার ৩৫০ ব্যারেল কনডেনসেট।এই কনডেনসেট পরিশোধন করে দেশের পেট্রোলের দৈনিক চাহিদার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ,অকটেনের ৭ থেকে ৮ শতাংশ, কেরোসিনের প্রায় ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের ১ শতাংশ উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় পাঁচ টন এলপিজি।সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন জানান,প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ৫০০ ব্যারেল পেট্রোল,৬০০ ব্যারেল অকটেন, ১০০ ব্যারেল কেরোসিন ও ১৫০ ব্যারেল ডিজেল উৎপাদিত হয়। বিপিসির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির মাধ্যমে এসব জ্বালানি বাজারজাত করা হয়।জ্বালানি তেলের উৎপাদন আরও বাড়াতে বিদ্যমান ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টগুলোর সক্ষমতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে এসজিএফএল। এ জন্য নতুন একটি ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান জায়গার মধ্যে নতুন ইউনিট স্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় পাশের জমি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন বলেন,নতুন ইউনিট স্থাপনের জন্য একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। বর্তমান জায়গায় ইউনিটটি স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই পাশের কিছু জমি নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কীভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন।দেশের গ্যাস ও জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ ও ২০৩৫ সালকে লক্ষ্য রেখে দুই ধাপে ৩০০টি গ্যাসকূপ খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর প্রথম ধাপে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড একটি তেলকূপসহ ১৫টি কূপ খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা করেছে।প্রতিষ্ঠানটির আশা,পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ করা ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের পাশাপাশি আরও ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে উপজাত হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কনডেনসেট পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে দেশে পেট্রোল,অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে,সিলেট অঞ্চলে গ্যাস ও কনডেনসেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন কূপ খননের পাশাপাশি বিদ্যমান কূপগুলোতেও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ফরহাদ হাওলাদার বলেন,গভীর কূপ খননের উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব বিদ্যমান কূপে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,সেগুলোও অনুসন্ধানের আওতায় আনা প্রয়োজন। এভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো গেলে দেশে জ্বালানির বর্তমান সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের সরবরাহমূল্য ও বাজারে প্রচলিত জ্বালানির দামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৫ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি এখনো বিপিসির কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে।প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,প্রতি লিটার অকটেন ৯২ টাকা ২৬ পয়সা, পেট্রোল ৮৫ টাকা ২৬ পয়সা,ডিজেল ৮০ টাকা ৪৬ পয়সা এবং কেরোসিন ৮১ টাকা ৪৭ পয়সা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।অন্যদিকে,সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখিত বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার অকটেন ১৬৫ টাকা,পেট্রোল ১৬০ টাকা, ডিজেল ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১৫৫ টাকা।সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি,নতুন কূপ খনন এবং সম্ভাবনাময় পুরোনো কূপে অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে দেশের জ্বালানি খাতে স্থানীয় উৎপাদনের অবদান আরও বাড়তে পারে। তবে এসব পরিকল্পনার সুফল পেতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন,বিনিয়োগ ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের কার্যকর বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম