প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
রাজনগরে বিদ্যালয়ের ছাদে ফাটল,নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
সত্যজিৎ দাস, স্টাফ রিপোর্টার ||
মৌলভীবাজারের রাজনগরে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের সিঁড়ির কক্ষের ছাদ ঢালাইয়ের ২৭ দিন পর সাটারিং খুলতে গিয়ে ছাদ দেবে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছাদটি ভবনের মূল কলাম থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী,শিক্ষক ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের মেদিনীমহল গ্রামে অবস্থিত জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেলে ছাদের সাটারিং খোলার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের সংকুলান না হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে চারতলা ফাউন্ডেশনের ওপর তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা।ভবনটির নির্মাণকাজ পেয়েছে ফরিদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. খলিলুর রহমান এন্টারপ্রাইজ। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণকাজের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে,ভবনের সিঁড়ির কক্ষের ছাদে বিম দেওয়া হয়নি এবং ছাদে প্রয়োজনের তুলনায় কম রড ব্যবহার করা হয়েছে।শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিষয়টি পরিদর্শন করে ছাদ ঢালাই না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেন বলে জানা গেছে। তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ছাদ ঢালাই দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢালাইয়ের ২৭ দিন পর শনিবার সাটারিং খুলতে গেলে ছাদটি দেবে যায় এবং মূল কলাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।এ ঘটনায় ভবন নির্মাণের গুণগত মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি বা অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক খলিলুর রহমান বলেন,“মিস্ত্রিরা বাড়িতে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করছিলেন। আমাকে বা প্রকৌশলীকে না জানিয়েই তাঁরা সিঁড়ির কক্ষের ছাদ ঢালাই দেন। প্রকৌশলী এটি ভেঙে ফেলার জন্য চিঠি দিয়েছেন। আমি এসে ওই ঢালাই ভেঙে নতুন করে ঢালাই দিয়ে দেব।”বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন,“নতুন ভবনের সিঁড়ির কক্ষের ছাদে বিম না দিয়ে ক্যান্টিলিভার ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ছাদটি ঝুলে পড়েছে। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।”শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জয় কাপালী বলেন,“আমাদের না জানিয়েই ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে ছাদটি ভেঙে নতুন করে ঢালাই দেওয়া হয়।”রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন,“ঘটনাটি জানার পর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের না জানিয়েই ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ছাদটি ভেঙে নতুন করে ঢালাই দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।”এদিকে,ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ত্রুটিপূর্ণ অংশের কারিগরি পরীক্ষা এবং নির্মাণকাজের মান যাচাই জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম