প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
সৈয়দপুরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রধান শিক্ষকের মানববন্ধন
শাহজাহান আলী, নীলফামারী প্রতিনিধি ||
নীলফামারীর সৈয়দপুরে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতেই শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে উপজেলা চত্বরে মানববন্ধন করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্কুল চলাকালে সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে এই কর্মসূচি পালন করানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এনিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাঙালীপুর নিজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক রুখসানা প্রধান শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসেন। এক ঘন্টাব্যাপী শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয় কর্মসূচিতে। আয়োজন স্থলেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে তাদের মন্তব্য। আর স্কুলের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা ও নৈশ প্রহরীকে মারধরের প্রতিবাদে এই আয়োজন বলে আয়োজকের দাবি। অথচ গত শুক্রবার সকালে স্কুলের বিরোধপূর্ণ সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গার ঘটনাকে সাজানো নাটক বলে দাবি করেছেন প্রতিপক্ষ জমির মালিক রুহুল আমীন বাবু। তিনি বলেন, আমি প্রবাসী। বিভিন্ন দেশে ব্যবসা করি। বেশি সময়ই বিদেশে থাকি। স্কুলের সাথেই আমার ৪৫ শতক কেনা জমি আছে। স্কুলের নৈশ প্রহরী, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আমার কাছে ৫ শতক করে জমি চেয়েছিলেন। আমি বিক্রি করতে অসম্মতি জানাই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে আমার জমিতেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। এসময় আমি বিদেশে ছিলাম। এর আগেও আমার জমির উপর দিয়ে যাওয়া পথটা দিয়েই স্কুলে যেতে হয়। এই রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হলে বাধা দেওয়ায় আর আমার অংশে সিসি ঢালাই দিতে পারেনি। সীমানা প্রাচীর দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার সাথে কথা বলেনি। সম্পূর্ণ আক্রোশমুলকভাবে গায়ের জোরে এই কাজ করা হয়েছে। দেশে আসার পর এনিয়ে প্রতিবাদ জানাই। কিন্তু কেউ সুরাহা করছেন না। এমতাবস্থায় গত ১ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তিনি উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এর প্রেক্ষিতে আমি তাঁর কাছে বলেছি যদি প্রাচীর স্কুলের জায়গায় হয় তাহলে পুরো ৪৫ শতক জমি লিখে দিবো। আর যদি আমার জমিতে হয় তাহলে এজন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। রুহুল আমীন বাবু আরও বলেন, মূলত: তারা কোন কাগজই দেখাতে পারবেনা। এই প্রাচীরটি স্কুল মাঠের উত্তর অংশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর করার জন্য বরাদ্দ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অর্ধেক করে বাকিটা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমার জমিতে উত্তর দক্ষিণ দিকে লম্বা করা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া স্কুলের প্রধান গেট লাগানোর নতুন অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে আমার জমি পার হয়ে স্কুলের মূল অংশে। অথচ সেখানে ঠিকাদারকে তৈরি করা স্টিলের গেট লাগাতে দেয়নি প্রধান শিক্ষক। এখন তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে নাটক শুরু করেছেন। তারা রাতের আঁধারে যেভাবে প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। ঠিক সেভাবে নিজেরাই ভেঙ্গে আমার উপর দোষ চাপাচ্ছেন। কারণ তারা কোন কাগজই দেখাতে পারবেননা। তাই ধামাচাপার অপচেষ্টা করছেন। অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক শিশুদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেছেন এবং শিক্ষা অফিস কর্মকর্তারা প্রশ্রয় দিয়েছেন। আমি এর সঠিক বিচার দাবি করছি। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এবং বিবাদমান সীমানা প্রাচীরের জমির কাগজ দেখাতে বললে প্রধান শিক্ষক রুখসানা প্রধান সটকে পড়েন। পরে স্কুলে গিয়েও তাকে না পেয়ে মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। কিন্তু কল রিসিভ করেননি। এমনকি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শারেজাহান পারভীনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তিনি বলেন, স্কুলে কোন কাগজ নাই। শিক্ষা অফিসে, ইঞ্জিনিয়ার অফিসে ও ভূমি অফিসে আছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের নৈশ প্রহরী গোলাম রাব্বানীকে প্রাচীর ভাঙ্গায় বাধা দেওয়ায় জমি মালিক মো. রুহুল আমীন বাবু, ওয়ার্ড বিএনপি সম্পাদক মো. আমিন ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের ড্রাইভার মো. আরিফ মারধর করেছে এবং তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে পাশের পুকুরে ফেলে দিয়েছেন। এজন্য আমি বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আজ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা মানববন্ধন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এই স্কুলের ক্লাস্টার অফিসার (সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা) মিজানুর রহমান বলেন, মানববন্ধন বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। অন্য স্কুলের পরিদর্শন কাজে বাইরে ছিলাম। আর স্কুলের জমির দলিল দস্তাবেজ এবং সীমানা প্রাচীরের স্থান নির্ধারণী ভূমি অফিসের স্কেচ বা প্রতিবেদন আমার কাছে নাই। তবে এসিল্যান্ড স্যারের উপস্থিতিতে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রবাসী বাবুর কাছে জমি কিনতে চেয়ে না পেয়ে আক্রোশ বশত: তাকে না জানিয়েই তার জমিতে প্রাচীর করা হয়েছে অভিযোগের বিষয়ে তিনি নিরবতা পালন করেন। এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষকরা মানববন্ধন করার ব্যাপারে আমাকে আগে অবগত করেনি বা অনুমতিও নেয়নি। তবে তাদের একজন কর্মচারীকে আঘাত করা ও স্কুলের প্রাচীর ভাঙ্গার কারণে আবেগতাড়িত হয়ে এটা করেছেন তারা। স্কুল বা ক্লাস টাইমে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এটা করা ঠিক হয়নি। আর জমি সংক্রান্ত কোন কিছু আমি জানিনা ও কাগজপত্রও আমার কাছে নাই। তবে এনিয়ে আদালতে মামলা চলমান বলে জেনেছি। উপজেলা প্রকৌশলী এম এম আলী রেজা রাজু বলেন, মূলত: প্রকল্পের বরাদ্দ এনেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ তথা শিক্ষা অফিস। আমরা শুধু কাজটা বাস্তবায়ন করেছি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে যেভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন সেভাবেই কাজ করা হয়েছে। এখন অভিযোগ উঠলে সেটার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের। আমার কাছে জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোন কাগজ নাই। স্টিলের গেট লাগানোয় ঠিকাদারকে স্কুল কর্তৃপক্ষের বাধা দেওয়ার বিষয় স্বীকার করে তিনি বলেন, গেটটা স্কুলের স্টোরে রেখে দিয়েছেন তারা।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম