প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
ব্রিটেনে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের স্থায়ী অনুমতি সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব ও অভিবাসীদের উদ্বেগ
আনোয়ার আলমগীর ||
ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করা অভিবাসীরা। তাদের আশঙ্কা, ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি বৈধ বসবাসের মাধ্যমে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ বাতিল করা হলে অনেককে ব্রিটেন ছাড়তে হতে পারে। এতে পরিবার পুনর্মিলনের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা জীবনও অনিশ্চয়তায় পড়বে।যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে জন্ম নেওয়া ৩২ বছর বয়সী জুলিয়ান গ্রান্ট ১৮ বছর বয়সের পর স্কটল্যান্ডে চলে আসেন। ২০১২ সালে সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়তে ব্রিটেনে আসেন এবং পরে পিএইচডি করতে ২০১৭ সালে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১০ বছর বৈধভাবে বসবাসের শর্ত পূরণ করায় আগামী বছর তার স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করার যোগ্যতা তৈরি হওয়ার কথা।সরকার ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পথ বাতিলের প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকে গ্রান্ট নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ব্রিটেনেই তার পুরো প্রাপ্তবয়স্ক জীবন, পেশাগত ক্যারিয়ার ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এত বছর ধরে স্থায়ী হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করার পর নিয়ম পরিবর্তন হলে তাকে আবার শুরু থেকে সবকিছু ভাবতে হবে। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেন ছাড়তে হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।পরিবারের ভিসার জন্য প্রায় ১২ হাজার পাউন্ড খরচ করার পরও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামির স্ত্রী ও মেয়েকে ভারতে ফিরে যেতে হয়। আগামী বছর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের পর পরিবারকে আবার ব্রিটেনে ফিরিয়ে আনার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পথ বাতিলের প্রস্তাব তার সেই পরিকল্পনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। সামি বলেন, তার স্ত্রী ব্রিটেনের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন এবং কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রমে দায়িত্বশীল পদে কাজ করেছেন। তিনি চান তার মেয়েও ব্রিটেনে বড় হোক।১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পথ বাতিলের প্রস্তাব এখনো কার্যকর হয়নি এবং সরকারও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। আবাসনবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার ব্রিটেনে আগে থেকেই থাকা বিদেশি কর্মীদের ওপর নতুন নিয়ম প্রয়োগের পরিকল্পনাকে ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধের পরিপন্থী’ বলে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগে থেকেই ব্রিটেনে থাকা অভিবাসীদের ওপর প্রস্তাবিত পরিবর্তন প্রয়োগের বিষয়টি কিছুটা শিথিল করা হতে পারে।স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, গত বছরের নভেম্বরে সরকার এমন সংস্কারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল, যার লক্ষ্য স্থায়ী বসবাসকে স্বয়ংক্রিয় অধিকার না রেখে অর্জন করতে হয়—এমন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। এসব সংস্কারের কয়েকটি দিক নিয়ে পরামর্শ গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।সূত্রঃ দ্য আই পেপার
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম