প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও কেন ক্লান্তি লাগে?
ডেস্ক নিউজ ||
রাতে পর্যাপ্ত আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও অনেকের সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ও মন সতেজ লাগে না; বরং ক্লান্তি, ঝিমুনি কিংবা অবসাদ অনুভূত হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল কতক্ষণ ঘুমানো হলো তা-ই যথেষ্ট নয়, ঘুমের মান (Sleep Quality) ও ধারাবাহিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea): এটি এমন একটি ঘুমের ব্যাধি, যেখানে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যাহত বা বন্ধ হয়। এর ফলে ঘুম বারবার ভেঙে যায় (যা অনেক সময় ব্যক্তির মনে থাকে না)। সকালে উঠে মাথাব্যথা, মনোযোগে অসুবিধা, দিনে অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া ও মেজাজ খিটখিটে হওয়া এর অন্যতম লক্ষণ।অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি: প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমাতে যাওয়া বা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ির (Circadian Rhythm) ভারসাম্য নষ্ট করে, যাকে ‘সোশ্যাল জেট ল্যাগ’ বলা হয়। ছুটির দিনে দেরিতে ঘুমানো ও দেরিতে ওঠার অভ্যাস এর অন্যতম কারণ।ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল গ্রহণ: বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা-কফি পান করলে ক্যাফেইনের প্রভাবে ঘুমের গভীরতা কমে যায়। অন্যদিকে অ্যালকোহল প্রাথমিকভাবে তন্দ্রাচ্ছন্নতা আনলেও রাতের শেষভাগে গভীর ঘুমে চরম ব্যাঘাত ঘটায়।দেরিতে ভারী খাবার: ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত ভারী খাবার খেলে এসিডিটি বা বুকজ্বালা হতে পারে, যা ঘুমের আরামদায়ক পরিবেশ ব্যাহত করে।১. ছুটির দিনসহ সপ্তাহের প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা।২. বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা, কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা।৩. শোবার ঘর শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখা এবং ঘুমানোর আগে মোবাইল/স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা।৪. দিনে নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং সকালে অন্তত কিছুক্ষণ প্রাকৃতিকভাবে সূর্যের আলোতে থাকা।নিয়ম মেনে চলার পরও দীর্ঘদিন টানা ক্লান্তি, অতিরিক্ত অবসন্নতা বা দিনে ঘুমের সমস্যা বজায় থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার কারণেও এ জাতীয় ক্লান্তি হতে পারে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম