প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
পুলিশ দেখে স্ট্রোক, তিন দিন পর নারীর মৃত্যু
ডেস্ক নিউজ ||
কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি মামলার তদন্তে বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার পর ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় হাসনা বেগম (৫৬) নামে এক নারী স্ট্রোক করেন বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ট্রোকের পর হাসনা বেগমকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাঁকে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন স্বজনেরা। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মৃত্যু হয়।হাসনা বেগম দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের নেহাল কাজী বাড়ির আব্দুল আজিজের স্ত্রী। শুক্রবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের একটি গর্তের পানি সেচে মাছ ধরছিলেন আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শুভ। এ সময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টরচালক নবী নেওয়াজ (৩৮) মাছ ফেলে দিয়ে নিজে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ নিয়ে শুভ ও স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন বিকেলে নবী নেওয়াজ ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ২০ থেকে ৩০ জনকে নিয়ে শুভদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।এ ঘটনায় শুভ ও তাঁর বাবা আক্তার হোসেন আহত হন। পরিবারের দাবি, আক্তার হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে এবং সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। তাঁকে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁর পায়ের একটি ক্ষতস্থানে ৩৮টি সেলাই দিতে হয়েছিল বলে পরিবার জানায়।ঘটনার পর গ্রামবাসী ধাওয়া করে ধামতী গ্রামের আব্দুল কাদের (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর আহত আক্তার হোসেনের ছোট ভাই আল আমিন বাদী হয়ে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদেরসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার পর প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। অন্যদিকে, নবী নেওয়াজও তাঁকে মারধর করা হয়েছে দাবি করে পাল্টা অভিযোগ দেন। দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসায় সামাজিক সালিসও হয়েছিল বলে জানা গেছে।গত ৬ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তী তদন্তের জন্য ভূষণা গ্রামে যান। পরিবারের দাবি, আসামিপক্ষের বাড়িতে অবস্থানের পর তদন্ত কর্মকর্তা বাদীপক্ষের বাড়ির দিকে গেলে হাসনা বেগম আশঙ্কা করেন, তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ এসেছে। এ সময় তিনি ছেলেদের সরে যেতে বলে চিৎকার করেন। পরে স্ট্রোক করে অচেতন হয়ে পড়েন।মামলার বাদী আল আমিনের অভিযোগ, তাঁর মা পুলিশের উপস্থিতিতে ছেলেকে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি আরও দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তা তাঁদের আঘাতের বিবরণ যথাযথভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত না করে আপসের পরামর্শ দিয়েছিলেন। মামলার তদন্ত ও আসামির জামিন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অজয় চক্রবর্তী বলেন, মামলার তদন্তে দাঁত ভাঙা বা কাটা-ছেঁড়ার বিষয় প্রমাণিত হলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে। বাদীকে ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতে হয়—এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি সমঝোতার কথাও বলেছিলেন বলে জানান।দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাত বা দাঁত ভাঙার বিষয় থাকলে তা মামলায় উল্লেখ থাকার কথা। পুলিশের উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোকের পর ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম