প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬
আমার ইসলামে প্রবেশকে কটাক্ষ করে অনেকেই কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন: সামান্তা
ডেস্ক নিউজ ||
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, জনপ্রিয়তাভিত্তিক ওয়াজ থেকে মুসলিমদের সব প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেকেরই নিজের ইসলামি জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। সঠিক নিয়ত থাকলে অল্প পরিশ্রমেও আল্লাহর পক্ষ থেকে বেশি বরকত পাওয়া সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন সামান্তা শারমিন।পোস্টে তিনি জানান, সম্প্রতি একটি সময়োপযোগী বয়ান শুনেছেন। আরবি না জানা এবং মাদ্রাসা বা অন্য কোনো ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আগে থেকে ইসলামি জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত না থাকায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে বলেও জানান তিনি।সামান্তা শারমিন লেখেন, পডকাস্টটির শুরু ও শেষের দিকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থাকায় সেটি আবার শোনা এবং অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন তিনি। ইসলাম সম্পর্কে সচেতনভাবে জানার ও চর্চা শুরু করায় অনেকে তাকে কটাক্ষ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইসলাম ও ইসলাম পালনকারীদের প্রতি মানুষের এমন বিরূপ মনোভাবের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেত্রী।তিনি আরও বলেন, সামাজিক চাপের কারণে ইসলাম ও এর জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলা কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং ছোটবেলার ধর্মীয় বই বা সহজলভ্য কিছু বইয়ের বক্তব্যকেই ইসলামের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা হিসেবে উপস্থাপন না করে, ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা উচিত।সামান্তা শারমিনের মতে, ডানপন্থী বা ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয়তা এবং শত বছরের জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যকে খাটো করে দেখা ঠিক নয়।বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বই প্রকাশনার সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, এসব ঘাটতির পেছনে শুধু ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা নয়, রাজনীতি, অর্থনীতি ও অন্যান্য বিষয়ও জড়িত।ইসলামি বইমেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, মুসলিম হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর নতুন বইয়ের সন্ধানে মেলায় গেলেও প্রত্যাশামতো বই পাননি। তার মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম ও অমুসলিম গবেষকেরা ইসলাম নিয়ে বিস্তর লেখালেখি করলেও সেসবের খুব সামান্যই সেখানে পাওয়া যায়। এমনকি পুরোনো বইও বারবার বিক্রি হতে দেখা যায়। ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকেও নতুন জ্ঞান অর্জনের মতো প্রকাশনা পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।সামান্তা শারমিনের অভিযোগ, কিছু রাজনীতিবিদ ইসলামি বইমেলার প্রশংসা করেন ইসলামি আবহ তৈরি করা বা ভোটারদের সন্তুষ্ট রাখার উদ্দেশ্যে; ইসলামি জ্ঞানচর্চার উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার জন্য নয়। তার মতে, রাজনীতিবিদদের উচিত বইমেলার প্রশংসায় সীমাবদ্ধ না থেকে ইসলামি বই ও জ্ঞানচর্চায় দেশের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি সামনে আনা।পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, পাশ্চাত্যধারার আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনা করা মানুষের জন্য ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন আরও কঠিন হতে পারে। কোরআন না পড়েই অনেকে ইসলাম সম্পর্কে সাধারণ মন্তব্য করেন, যা কখনো কখনো অযৌক্তিক ধারণা তৈরি করে। এ প্রসঙ্গে তিনি ইসলামে নারী-পুরুষের অবস্থান নিয়ে প্রচলিত কিছু মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন।সবশেষে মুসলিম উম্মাহর আত্মবিশ্বাস ও সঠিক পথে চলার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন সামান্তা শারমিন।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম