প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
রংপুরে ৪ খুন: কামড়ানো ফল ও সিগারেটে মিলল আসামিদের ডিএনএ
মোঃ রওকত আলী , উপজেলা প্রতিনিধি ||
রংপুর নগরীর মাছুয়া পাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় বড় ধরনের ফরেনসিক অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা কামড় দেওয়া খেজুর, শসা, সিগারেটের ফিল্টার ও খেজুরের বিচিতে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডিএনএর হুবহু মিল পাওয়া গেছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী।সিআইডি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট রাতে মাছুয়া পাড়ার নিজ বাসভবন থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, চারজনকেই অত্যন্ত নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল।হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপরাধস্থল থেকে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ, আংশিক খাওয়া খাবার, ফল কাটার চাকু ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ অন্তত ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করে ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো আলামতের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।প্রাথমিক তদন্ত ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে যে, চারজনকে হত্যার পর ঘাতকরা বেশ কিছুক্ষণ ওই বাড়িতেই অবস্থান করে। তারা সেখানে গোসল সারে এবং স্বাভাবিকভাবে ফ্রিজ খুলে খেজুর ও শসা বের করে খায়। এরপর পুরো ঘর তছনছ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি ইতিমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া খাদ্যদ্রব্য ও ধূমপানের আলামতে আসামিদের ডিএনএ প্রোফাইল মিলে যাওয়ায় মামলার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও প্রমাণ বহুগুণ শক্তিশালী হলো। তবে আদালতে চূড়ান্ত অপরাধ প্রমাণের স্বার্থে এই ডিএনএ প্রতিবেদনের পাশাপাশি আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ময়নাতদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন এবং উদ্ধারকৃত লুণ্ঠিত মালামালকে অন্যতম প্রধান সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম