প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে প্রশাসনিক তদন্ত সাজানো হতো
ডেস্ক নিউজ ||
বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড জনসম্মুখে এলে সেটিকে বৈধতা দেওয়ার জন্য লোক দেখানো প্রশাসনিক তদন্ত করা হতো বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য পেয়েছেন বলে জানান তিনি।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।এদিন ১৫তম সাক্ষী হিসেবে জিয়াউলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে চলে এলে প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালে রাখতে নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্তের ব্যবস্থা করা হতো। ওই তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হতো।রফিকুল ইসলাম আরও জানান, প্রকৃত মৃত্যুর কারণ আড়াল করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে কর্মকর্তাদের ভুল বা মিথ্যা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশ প্রতিবেদন তৈরিতে বাধ্য করা হতো। প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করাই এর উদ্দেশ্য ছিল বলে জানান তিনি।মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ তৃতীয় দিনের মতো শেষ হয়েছে। বাকি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী রোববার (১১ অক্টোবর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।প্রসিকিউশন জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সেদিন তিনি আংশিক জবানবন্দি দেন। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি কোথায় কোথায় গেছেন, কী কী তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলো কীভাবে মামলার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত—জবানবন্দিতে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন।এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর মামলায় সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম। তদন্তের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা আলামতের তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন তিনি। একই দিন মামলার ১৩তম সাক্ষী র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি ছিলেন মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী।জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ের মধ্যে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং একই দিন প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম