প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
'ছেলের লাশ পেয়েছেন, কাঁদতে পারবেন না; কাঁদলে লাশ গায়েব করে দেব’
ডেস্ক নিউজ ||
জুলাই বিপ্লবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রাণ হারানো ১৪ বছর বয়সী রিকশাচালক শহীদ ইমনের মা কুলসুম বেগম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ উপস্থিত হয়ে ছেলে হত্যার জবানবন্দি দিয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে বুধবার তিনি এই মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।জবানবন্দিতে কুলসুম বেগম জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাতে সারাদেশে কারফিউ জারি করা হলে তিনি ইমনকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেছিলেন। জবাবে ইমন শহীদ ইয়ামিন হত্যার ভিডিও দেখিয়ে বলেছিল, “আমার বয়সী ছেলেদের কীভাবে মেরে ফেলছে; আমি কেন আন্দোলনে যাব না।” এরপর ২০ জুলাই বিকেলে আন্দোলনে গিয়ে এম জেড হাসপাতালের সামনে তেঁতুলতলার মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয় ইমন।ঘটনাস্থলে ছেলেকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেয়ে মা কুলসুম বেগমও জ্ঞান হারান। পরে তাদের উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসা হলে তিনি দেখতে পান ছেলের মাথার পেছনে ছোট ফুটা, বাম গাল ঝুলে গেছে এবং বুকে গুলির চিহ্ন। সেই মুহূর্তে এক রাজনৈতিক ব্যক্তি এসে ধমক দিয়ে হুমকি দেয়, “ছেলের লাশ পেয়েছেন, কাঁদতে পারবেন না; কাঁদলে লাশ গায়েব করে দেব।”তিনি আরও জানান, স্থানীয় একটি মসজিদ খাটিয়া দিতে অস্বীকৃতি জানালেও অন্য এক মসজিদের সহায়তায় রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে তিন জায়গায় আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার মুখে পড়ে কাকুতি-মিনতি করে ছাড়া পান তারা। পরদিন সকালে পারিবারিক কবরস্থানে ইমনকে দাফন করা হয়।সাক্ষ্য দেওয়ার সময় অঝোরে কেঁদে উঠে শহীদের মা বলেন, “আমার ছেলের হত্যার জন্য শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, কামরুল ইসলামদের দায়ী করি। ১৯ জুলাই কারফিউ না দিলে আমার ছেলে বেঁচে থাকত। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।”
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম