প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
নিজে কবর খুঁড়ে জীবনের শেষ নিঃশ্বাসের অপেক্ষায় আব্দুর রহিম: ঝিনাইদহে চাঞ্চল্য
||
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:জীবিত অবস্থায় নিজের ও স্ত্রীর জন্য পাকা কবর তৈরি করে সেখানে প্রতিদিন সময় কাটানোর এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায়। মৃত্যুর পর সন্তানদের অবহেলা বা সঠিক জায়গায় দাফন না হওয়ার আশঙ্কায় এবং পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ এড়াতে তিনি নিজেই এই প্রস্তুতি নিয়েছেন।উপজেলার কুশড়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম গত পাঁচ বছর ধরে নিজ হাতে ইট-পাথরে ঘেরা এই পাকা কবরটি নির্মাণ করেছেন। শুধু নিজের জন্য নয়, মৃত্যুর পর যাতে স্ত্রীর সাথে তাকে পাশাপাশি দাফন করা যায়, সে জন্য পাশেই আরেকটি কবর তৈরি করে রেখেছেন তিনি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন নিয়ম করে নিজের কবর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন আব্দুর রহিম। এমনকি মৃত্যুর পর পরিবারের ওপর যেন কোনো বাড়তি চাপ না পড়ে, সে কথা ভেবে তিনি বেঁচে থাকতেই নিজের ৪০াও সম্পন্ন করে রেখেছেন।এ বিষয়ে আব্দুর রহিম বলেন, "মৃত্যুর পর সন্তানরা আমাদের দাফন করবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। তাই জীবিত অবস্থাতেই আমার ও স্ত্রীর কবর খুঁড়ে রেখেছি, যাতে মৃত্যুর পর আমাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।"ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষ কুশড়াবাড়িয়া গ্রামে ভিড় করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ বিশ্বাস ও সাইফুল ইসলাম জানান, জীবনে এমন ঘটনা তারা আগে দেখেননি। স্বরূপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি শোনার পর তিনি কিছুদিন আগে ওই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং তার এই ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।এদিকে ধর্মীয় বিধান নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি জাকির হোসাইন বলেন, নির্দিষ্ট ব্যক্তির কবর পাকা করা বা ঝাড়ু-মোছা শরিয়তসম্মত নয় এবং এটি বিদআত। তবে সুরক্ষার জন্য পুরো কবরস্থানের চারপাশের সীমানা পাকা করা জায়েজ।সবাইকে একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে—এই পরম সত্যকে সামনে রেখে আব্দুর রহিমের এমন ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম