প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
কেন তারকাদের বিচ্ছেদে ভক্তরা হতাশ হন?
বিনোদন ডেস্ক ||
বিনোদন জগতে তারকাদের প্রেম ও বিয়ে যেমন খবরের শিরোনাম হয়, তেমনি বিচ্ছেদের খবরও তৈরি করে সমান তুমুল আলোচনা। সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্ক ও চার বছরের সংসারের ইতি টেনে বিচ্ছেদের যৌথ ঘোষণা দিয়েছেন প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মুনিরা হাশেম। তাদের এই বিচ্ছেদ বিনোদন অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বড় ধাক্কা দিয়েছে।প্রীতম-শেহতাজ একা নন; সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শোবিজে বিচ্ছেদের তালিকাটা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ও নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানা। ২০২৫ সালেও সামনে আসে একাধিক বিচ্ছেদের খবর—সংগীতশিল্পী তাহসান খান ও রোজা আহমেদ, দিলশাদ নাহার কণা ও গোলাম মোহাম্মদ ইফতেখার, মৌসুমী আক্তার সালমা ও আইনজীবী সানাউল্লাহ নূর সাগর এবং অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু ও মমরেনাজ মোমোর দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের খবর। এর আগে ২০২৪ সালে মাহিয়া মাহি ও রকিব সরকার, অভিনেতা আরিফিন শুভ ও অর্পিতা সমাদ্দার এবং চিত্রনায়িকা পরীমণি ও শরিফুল রাজের সম্পর্কের ভাঙন নতুন করে আলোচনায় আসে। অতীতেও তাহসান-মিথিলা, হাবিব-রেহান, শখ-নিলয়, হৃদয় খান-সুজানাদের মতো আলোচিত জুটির বিচ্ছেদ শোবিজে সম্পর্কের ভঙ্গুরতাকেই তুলে ধরে।নিউইয়র্কভিত্তিক সাইকোথেরাপিস্ট ক্যাথরিন শেফলারের মতে, সাধারণ মানুষ তারকাদের একটি ‘নিখুঁত জুটি’ হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু তাদের সম্পর্ক ভাঙলে সাধারণ মানুষের মনে অবচেতনভাবেই নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়—তারা ভাবতে থাকেন, সব থেকেও যদি ওদের সম্পর্ক না টেকে, তবে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের পক্ষে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব তো?ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. অ্যান্ড্রিয়া লাইনারের মতে, ভক্তরা তারকাদের সঙ্গে এক ধরণের ‘প্যারাসোশ্যাল’ বা একপাক্ষিক আবেগীয় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তারকাদের সাফল্য ও জীবনযাত্রার কারণে অনেকেই ভাবেন তারা সমস্ত মানসিক বা সামাজিক জটিলতা মুক্ত। ফলে তাদের বিচ্ছেদ সাধারণ অনুরাগী ও ভক্তদের মনে বিভ্রান্তি ও হতাশা বাড়ায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিককালে তারকা ও সাধারণ মানুষের সম্পর্কের গভীরতা নষ্ট হওয়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল নির্ভরশীলতা।কর্মব্যস্ততা ও দূরত্বের কারণে সম্পর্কের মূল ভিত্তি সামনাসামনি কথা বলা কমে গেছে। প্রেম কিংবা ক্ষোভ—সবকিছুই এখন সীমাবদ্ধ মেসেজিং অ্যাপ ও স্ট্যাটাসে।আইনজীবীদের মতে, ডিজিটাল চ্যাট বা পুরোনো ছবি সহজে মোছা যায় না। রাগের মাথায় দেওয়া পুরনো বার্তা বা পোস্ট ক্ষমার পথ কঠিন করে তোলে এবং ক্ষত তাজা রাখে।সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের সাজানো জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনের তুলনা মানসিক দূরত্ব বাড়ায়। পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতে অবাধ যোগাযোগ পারস্পরিক বিশ্বাস নড়বড়ে করে দিয়ে সম্পর্কের ভিত ভেঙে দিচ্ছে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম