প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
পাইকগাছায় কোটি টাকার সরকারি খাসজমি দখল করে পাঁকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ||
খুলনার পাইকগাছায় সরকারি খাসজমি দখল করে একের পর এক পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চাঁদখালী বাজারের গরুর হাটের বিপরীতে নদীসংলগ্ন জায়গাসহ বাজারের বিভিন্ন অংশে সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সেখানে সাতটি দোকানের পজিশন পাকাকরণের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানা যায়। সরকারি সম্পত্তিতে প্রকাশ্যেই নির্মাণকাজ চললেও এসব স্থাপনার বৈধতা, ইজারা বা বন্দোবস্তের নথি নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ মিলছে কীভাবে, আর এসব দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষই বা কোথায়?স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদখালী বাজারের একটি বড় অংশ কার্যত সাইফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁদের দাবি, বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারি খাসজমি দখল করে একের পর এক দোকানের পজিশন গড়ে তোলা, সেগুলো পাকাকরণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। শুধু বাজারের দোকান নয়, সরকারি জমি দখল করে ঘের পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।স্থানীয়দের ভাষ্য, চাঁদখালী গরুর হাটের বিপরীত পাশে নদীসংলগ্ন প্রায় তিন একর জায়গাতেও সাইফুল ইসলাম ও তাঁর পাঁচ ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে অভিযোগ। সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে বলেও দাবি তাঁদের। ফলে বাজারের সরকারি জমি, দোকানের পজিশন ও নদীসংলগ্ন জমির ওপর তাঁদের প্রভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে জমি ও স্থাপনার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে করতে ওই এলাকায় তাঁদের একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণবলয় তৈরি হয়েছে। এর ফলে সরকারি জমিতে নতুন স্থাপনা নির্মাণ বা দখলের অভিযোগ উঠলেও প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পান না অনেকেই।স্থানীয় বাসিন্দার জানান, বাবা ও ৫ ভাই এলাকায় এমন একটি প্রভাব বিস্তার তৈরি করেছেন, যার কারণে চাঁদখালী তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর আগের তুলনায় তাঁদের দাপট আরও বেড়েছে এবং জমি দখল থেকে শুরু করে বাজারের বিভিন্ন স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে তাঁদের প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয়রা জানান, “তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে বিপদ হতে পারে—এমন ভয় এলাকায় রয়েছে। তাই অনেকেই সবকিছু দেখেও চুপ থাকেন।”স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও অভিযোগ করেন, প্রভাব বিস্তারের এই পরিস্থিতিতে সরকারি জমি দখল, স্থাপনা নির্মাণ কিংবা দোকানের পজিশন নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়েও কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে চাঁদখালী বাজারে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগের পাশাপাশি একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে তিনি সরাসরি এ প্রতিবেদককের সাথে দেখা করার কথা জানান।এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী জানান, চাঁদখালী বাজার সংলগ্ন পাকা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা হলে তা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেউ নির্দেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাজারের পশ্চিম পাশে কিছু জমি বন্দোবস্তপ্রাপ্ত রয়েছে। কোন জমি সরকারি খাস এবং কোনটি বৈধ বন্দোবস্তের আওতায় রয়েছে, তা তফসিলদারের মাধ্যমে সরেজমিন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা হবে। সরকারি খাসজমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম