প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
দিনাজপুরে নেশার টাকার জন্য ৪ মাসের ভাগিনাকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করলেন মামা
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি ||
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নেশার টাকা জোগাড় করতে মাত্র চার মাস বয়সী ভাগিনাকে চুরি করে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মামার বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মামা জিয়ারুল ইসলামকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আজ সোমবার পার্বতীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শিশু টিকে চুরির অপরাধে মামা জিকরুলকে গ্রেফতার করার সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। জিয়ারুল ইসলাম পার্বতীপুর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামে নানির বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা চার মাস বয়সী শিশু মাহিন ইসলামকে চুরি করে নিয়ে যান তার মামা জিয়ারুল ইসলাম। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পাওয়ার পর শিশুটির সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন।পরে জানা যায়, শিশুটিকে দিনাজপুর জেলা শহরের ৮ নম্বর নিউ টাউন এলাকার মাতা সাগর মহল্লায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে মিলন ইসলাস নামে এক ব্যক্তির কাছে শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।শিশুটির সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে দিনাজপুর সদর থানা ও পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ যৌথ ভাবে শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দিনাজপুর সদর থানা পুলিশ মিলন ইসলামের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।মোমিনপুর ইউনিয়নের সদস্য দুলাল হোসেন জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে শিশুটিকে চন্দ্রপুরে নানির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।এদিকে শিশুটির মা ও নানির সন্দেহ হলে তারা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তার মামা জিয়ারুল ইসলাম জড়িত। পরে পরিবারের সদস্যরা গ্রামবাসীর সহায়তায় গত ৫ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে জিয়ারুলকে আটক করে পার্বতীপুর মডেল থানায় সোপর্দ করেন।পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, শিশুটির মা মনিরা বেগম কয়েকদিন ধরে চন্দ্রপুর গ্রামে তার মায়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গত ৪ অক্টোবর শিশুটিকে তার মামা জিয়ারুল ইসলাম নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।ওসি জানান, শিশুকে চুরি ও পাচারের অভিযোগে জিয়ারুল ইসলাম, মিলনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৬।তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে মাদকাসক্ত মামার বিরুদ্ধে শিশুটিকে অপহরণের অভিযোগ উঠলেও এর সঙ্গে আরও কেউ বা কোনো মানব পাচারচক্র জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম