প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
দেশি না ব্রয়লার মুরগির ডিম, কোনটি বেশি পুষ্টিকর?
ডেস্ক নিউজ ||
খোলামেলা পরিবেশে পালিত দেশি (ফ্রি-রেঞ্জ) মুরগির ডিম নাকি খামারের ব্রয়লার ডিম—কোনটি বেশি পুষ্টিকর, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানান প্রশ্ন রয়েছে। তবে পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ধরনের ডিমের পুষ্টিগুণ ও প্রোটিনের পরিমাণে তেমন কোনো বড় পার্থক্য নেই।পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শক ডা. অরুণ কুমারের মতে, উভয় ডিমেই প্রোটিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান প্রায় সমান থাকে। উন্মুক্ত পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবে পোকা-মাকড় ও ঘাস খেয়ে বড় হওয়া মুরগির ডিমে কেবল ওমেগা-৩ এবং ক্যারোটিনয়েডের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে। ক্যারোটিনয়েড নামক এই রঞ্জক পদার্থের কারণেই দেশি ডিমের কুসুম গাঢ় হলুদ বা কমলা দেখায়, যা খাবারের ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, পোল্ট্রি ফিড খাওয়া ব্রয়লার মুরগির কুসুমের রঙ কিছুটা হালকা হয়ে থাকে।ডা. অরুণ কুমার জানান, কেউ যদি কেবল প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিম খান, তবে বেশি টাকা খরচ করে ফ্রি-রেঞ্জ ডিম কেনার দরকার নেই; ব্রয়লার ডিমই যথেষ্ট।এছাড়া মুরগিকে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া সংক্রান্ত প্রচলিত ধারণাটিকে সম্পূর্ণ ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি ব্যাখ্যা করেন, হরমোন দিয়ে মুরগি পালন করা বৈজ্ঞানিক ও সামর্থ্যের দিক থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। খামারে মুরগিকে কেবল রোগপ্রতিরোধের টিকা দেওয়া হয়, যাকে অনেকেই ভুল করে হরমোন ইনজেকশন ভাবেন।একইসঙ্গে ডিম বা মুরগির মাংস খেলে কম বয়সে মেয়েদের বয়ঃসন্ধি (অকাল পিউবার্টি) আসে—এমন দাবিরও কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানান তিনি। ডা. অরুণ কুমারের মতে, বিগত এক শতাব্দীতে সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী পরিবারগুলোতেও মেয়েদের বয়ঃসন্ধির গড় বয়স কমেছে। ফলে ব্রয়লার মুরগি বা ডিমের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম