প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
বীরগঞ্জে মাচায় ঝুলছে লাউ, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি ||
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকেরা। উপজেলার প্রাণনগর গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিনের দুই একর ৬০ শতাংশ জমির লাউখেত এখন দৃষ্টিনন্দন। মাচাজুড়ে ঝুলছে সারি সারি লাউ। প্রতিদিন অথবা এক দিন পরপর ৪০০ থেকে ৬০০টি লাউ বিক্রি করছেন তিনি। জমি থেকেই প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে। কৃষক মহির উদ্দিনের বয়স ৬০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি পুরোপুরি সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। গত আগস্টের প্রথম দিকে দুই একর ৬০ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ শুরু করেন তিনি। প্রতি একর জমিতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা।মহির উদ্দিন জানান, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে তাঁর লাউখেত থেকে নিয়মিত লাউ বিক্রি হচ্ছে। প্রতি দুই দিন পরপর ৫০০ থেকে ৬০০টি পর্যন্ত লাউ বিক্রি করছেন তিনি। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকার সবজি ব্যবসায়ীরা সরাসরি তাঁর জমিতে এসে লাউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ঝামেলাও কমেছে।তিনি বলেন, ‘এখন আগাম শীতকালীন সবজির চাহিদা বেশি। প্রতিটি গাছে সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচ থেকে ছয়টি পর্যন্ত লাউ ধরছে। দুই থেকে তিন দিন পরপর সেগুলো বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়ায় আমি খুশি।মহির উদ্দিন আরও বলেন, প্রায় এক মাস পর্যন্ত মাচা থেকে লাউ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এরপর একই জমিতে পটলসহ অন্য লতাজাতীয় ফসল চাষ করবেন। একটি মাচা তৈরি করে দুই থেকে তিনটি, এমনকি চারটি পর্যন্ত ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় এতে উৎপাদন খরচও কমে আসে। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে লাউ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।স্থানীয় কৃষক হায়দার আলী বলেন, মহির উদ্দিনের লাউ চাষ দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। তাঁর জমিতে প্রচুর লাউ ধরেছে এবং বিক্রিতেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকার সবজি ব্যবসায়ীরা এসে নগদ টাকায় মাঠ থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে কৃষকদের মধ্যে সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে।প্রাণনগর গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, এ অঞ্চলের মাটি ও পরিবেশ সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। বর্তমানে এলাকার কৃষকেরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। লাউয়ের পাশাপাশি ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, শসাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় প্রতিবছরই কৃষকেরা নতুন করে সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, বীরগঞ্জের প্রাননগর ও দলুয়া এলাকায় ব্যাপক পরিমাণে সবজি উৎপাদন হয়। এখানকার কৃষকেরা ভালো দাম পাওয়ার আশায় প্রতিবছর আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সার ও বালাইনাশক ব্যবস্থাপনা এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা সরাসরি মাঠে এসে কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে কৃষকেরা উৎপাদিত সবজি দ্রুত বিক্রি করে নগদ অর্থ পাচ্ছেন এবং আগাম সবজি চাষে তাঁদের আগ্রহ আরও বাড়ছে।বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে সবজি উৎপাদন হচ্ছে। এসব সবজি দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বিশেষ করে ট্রাকযোগে সরাসরি ঢাকায় সবজি পাঠানো হচ্ছে। এতে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা যাতে উৎপাদিত সবজির ভালো বাজার ও ন্যায্য দাম পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আগাম সবজি চাষের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষকেরা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম