প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
সিরাজদিখানে গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক মো. হারুনুর রশীদের জাল সনদের প্রমান মিলেছে
মো. আবদুল আউয়াল , সহকারি সম্পাদক ||
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি কেন্দ্রের শিক্ষক মো. হারুনুর রশীদের শিক্ষাগত সনদ নিয়ে করা অভিযোগের তদন্তে সনদটি জাল বলে প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সনদ যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় পাঠানো হলে প্রতিষ্ঠানটি লিখিতভাবে জানিয়েছে, ২০০৪ সালের তাকমীল পরীক্ষার্থীদের তালিকায় ওই নামে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি এবং উপস্থাপিত সনদটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর তাজপুর কাজীবাড়ী জামে মসজিদে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রটির বর্তমান কোড ৬৫৬। সেখানে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. হারুনুর রশীদ।
গত ২৬ জুলাই মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক মো. সিহাব উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে হারুনুর রশীদের শিক্ষাগত সনদ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
অভিযোগের পর ইউএনও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার কাছে সনদটির সত্যতা যাচাই করে জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সাভারের রাজফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত আল-জামেয়াতুল মাদানিয়া মাদ্রাসা গত ২১ সেপ্টেম্বর লিখিত প্রত্যয়নপত্র দেয়।
মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, তাদের কাছে পাঠানো সার্টিফিকেটে মো. হারুনুর রশীদ, পিতা—হাশেম আলী খান, রোল নম্বর ৬৮৩, শিক্ষাবর্ষ ২০০৪ ইং (১৪২৫ হিজরি) উল্লেখ থাকলেও ২০০৪ সালের তাখমীলের ছাত্র তালিকায় ওই নামে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। একই প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়, উপস্থাপিত সার্টিফিকেটটি আল-জামেয়াতুল মাদানিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রদান করা হয়নি।
বিষয়টি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া মস্তফাগঞ্জ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল গফ্ফার বলেন, হারুনুর রশীদের সার্টিফিকেট যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছিল। সেখান থেকে যে প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে, সেটিই সঠিক বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা হাসান বলেন, ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে বেতন নেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুতর। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিরাজদিখান উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার মো. ইস্রাফিল আহম্মেদ বলেন, “তদন্তের মাধ্যমে মো. হারুনুর রশীদের জাল সনদের সত্যতা পেয়েছি। আমি সে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছি।”
অভিযোগকারীর দাবি, প্রায় দুই দশক ধরে ওই সনদ ব্যবহার করে হারুনুর রশীদ গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে হারুনুর রশীদের পরিবারের পক্ষ থেকে সিরাজদিখান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ কেয়ারটেকার মো. মিরাজ হোসাইনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মিরাজ হোসাইন।
জানা যায়, হারুনুর রশীদের মেয়ে আমেনা আক্তার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের কাকালদি রমনা মার্কেট এলাকায় মক্তবের একটি কেন্দ্র পরিচালনা করতেন। ওই কেন্দ্র পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে মিরাজ হোসাইনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়।
মিরাজ হোসাইনের দাবি, অভিযোগে গত ৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্র পরিদর্শনের কথা বলা হলেও ওই তারিখের কোনো পরিদর্শন প্রতিবেদন নেই। সংশ্লিষ্ট নথিতে ১৩ সেপ্টেম্বরের পরিদর্শনের তথ্য রয়েছে। ওই দিন তিনি কেন্দ্রের বাইরে থেকে কথা বলে পরিদর্শন করেন বলেও জানান মিরাজ।
অন্যদিকে আমেনা আক্তারের স্বামী ও হারুনুর রশীদের জামাতা মো. আশরাফুজ্জামান কাকালদি রমনা মার্কেট জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পরবর্তীতে তাঁর চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনায়ও মিরাজ হোসাইনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করা হয়।
তবে মসজিদটির সেক্রেটারি ও মধ্যপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জানান, আশরাফুজ্জামানের চাকরি চলে যাওয়ার বিষয়ে মিরাজ হোসাইন কোনো ধরনের কথা বলেননি। মিরাজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে তিনি নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।
গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক হিসেবে হারুনুর রশীদের নিয়োগের যোগ্যতা, সনদের বৈধতা এবং দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম