প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সোনাহাট সেতুর পাশে অবৈধ বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে সেতু ও নদীর তীর
||
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতুর পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে নদীর তীর ঘেঁষে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নির্মাণাধীন সেতু, নদীর তীর রক্ষা বাঁধ, বসতভিটা ও ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, দুধকুমার নদে সোনাহাট সেতুর পশ্চিম পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তীর রক্ষা বাঁধের কাছাকাছি তিনটি ড্রেজার বসিয়ে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় এভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তীর রক্ষা বাঁধের সুরক্ষায় ব্যবহৃত ব্লক সরে গিয়ে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।জানা গেছে, উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কে দুধকুমার নদীর ওপর প্রায় ১৩০ বছর পুরোনো একটি রেলসেতু রয়েছে। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এর দক্ষিণ পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ২০১৯ সালে প্রায় ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ দশমিক ০১৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। বর্তমানে সেতুটির নির্মাণকাজ চলমান।স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও জালাল হোসেন বলেন, সোনাহাট সেতুর পশ্চিম-দক্ষিণ প্রান্তে দুধকুমার নদীর ভাঙন ঠেকাতে পাউবো ব্লক দিয়ে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে। অথচ সেই বাঁধের কাছাকাছি এবং নির্মাণাধীন নতুন সেতুর পশ্চিম পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে তীর রক্ষা বাঁধ ও আশপাশের বসতভিটা এবং ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই ঝামেলার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না বলেও জানান তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইকেরছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির ভাই আলম হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার ও লেবু মিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল এসব বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, “আমার নিজস্ব পুকুরের তলা সমান করার জন্য আমার একটি ড্রেজার চলছে।”বালু উত্তোলনকারী হিসেবে অভিযুক্ত আলম হোসেন বলেন, “আমার ড্রেজার কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ড্রেজারটি সরিয়ে নেওয়া হবে।”এদিকে একই উপজেলার ইসলামপুরের সামাদের ঘাট এলাকায় নদীর ভাঙনপ্রবণ তীরেও দুটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর তীরবর্তী এলাকা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “এটা বন্ধ করা পুলিশের কাজ নয়। প্রশাসন চাইলে আমরা পুলিশ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারি।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, “এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতু ও নদীর তীর রক্ষা বাঁধের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম