প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
হাফপ্যান্ট পরায় প্রশিক্ষককে হেনস্তা, মেট্রোরেলে তরুণদের অভিনব প্রতিবাদ
ডেস্ক নিউজ ||
হাফপ্যান্ট পরাকে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনকে মেট্রো স্টেশনে হয়রানির প্রতিবাদে অভিনব কর্মসূচি পালন করেছেন কয়েকজন তরুণ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে হাফপ্যান্ট পরে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে উপস্থিত হন তারা।গত ২৭ সেপ্টেম্বর শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গেলে সাজ্জাদ হোসেনকে ফার্মগেট স্টেশনে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য আটকে রাখেন। তার পোশাককে ‘অশালীন’ উল্লেখ করে টিকিট পাঞ্চের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। তবে মেট্রোরেলে চলাচলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ড্রেসকোড নেই।এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয়।সকাল ৭টার দিকে ফার্মগেটের আনোয়ারা উদ্যানসংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী ও রানার সাগর মজুমদার, বেসরকারি চাকরিজীবী রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান। তাদের মধ্যে সাগর ও মাহফুজুর হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন। তারা ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি স্টেশনের টিকিট কেটে ট্রেনে যাত্রা করেন।সাগর মজুমদার বলেন, দৌড়ানোর সময় শর্টস পরা স্বাচ্ছন্দ্যের। সাজ্জাদ হোসেনের মতো ভবিষ্যতে অন্য কোনো রানার বা যাত্রী যেন পোশাকের কারণে হয়রানির শিকার না হন, সে কারণেই তারা প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন।তিনি বলেন, শর্টসকে নেতিবাচকভাবে দেখার পরিবর্তে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া উচিত। তার ভাষায়, ‘সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে।’এদিকে একই সময়ে ফার্মগেট স্টেশনের অন্য একটি প্রবেশপথ দিয়ে আরও দুই তরুণ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন বলে জানা গেছে। তারা ফার্মগেট থেকে মতিঝিলের টিকিট নিয়েছিলেন।এর আগে সাজ্জাদ হোসেনকে হয়রানির প্রতিবাদে আয়োজিত ফেসবুক ইভেন্টে বলা হয়, পোশাক নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ থাকলে তা স্পষ্ট ও লিখিত নিয়মের মাধ্যমে জানানো উচিত। কর্মসূচিটিকে শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ হিসেবেও উল্লেখ করেন আয়োজকরা।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম