প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুই দশক পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের চূড়ান্ত অবসান ঘটিয়ে ইরাকে অবস্থানরত তাদের সর্বশেষ সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকেও সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই প্রস্থানকে নিজেদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ‘বিজয়’ হিসেবে উদ্যাপন করছে ইরাকের প্রভাবশালী শক্তিগুলো এবং তাদের মিত্র ইরান।সেনাবাহিনী সরিয়ে নিলেও ইরাকের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দৃশ্যমান ও পরোক্ষ আধিপত্য এখনও অটুট। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতনের পর থেকেই মূলত নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে ইরাকের পুরো তেল রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ওয়াশিংটন।২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘কোয়ালিশন প্রভিশনাল অথরিটি’ (CPA) গঠনের মাধ্যমে তৈরি করা হয় ‘ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক’ (DFI)। মূলত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন এবং তৎকালীন সাদ্দাম সরকারের নামে থাকা আন্তর্জাতিক মামলা থেকে তেলের অর্থ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে এই তহবিল গঠন করা হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের এক নির্বাহী আদেশে শুরু হওয়া এই প্রশাসনিক কাঠামোটি পরবর্তীতে নিউ ইয়র্ক ফেডে ‘ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক’-এর একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক হিসাবে রূপ নেয়।ইরাকের জাতীয় বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে তেল রপ্তানি থেকে। ফলে এই বিপুল রাজস্বের নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতে থাকায় দেশটি কার্যত মার্কিন অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল:২০২০ সালে তৎকালীন ইরাক সরকার মার্কিন বাহিনীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিলে ওয়াশিংটন নিউ ইয়র্ক ফেডে থাকা ইরাকি ফান্ড স্থগিত করার হুমকি দেয়, যার ফলে বাগদাদ পিছু হঠতে বাধ্য হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরাকি কর্তারা জানান, এই ব্যবস্থার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে ডলার প্রাপ্তি সহজ হয়, আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের মামলার হাত থেকে তহবিলের সুরক্ষার সুযোগ থাকে এবং ইরাকি মুদ্রা ‘দিনার’-এর মান তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।গত বছর ইরানের কাছে বেআইনিভাবে ডলার পাচারের অভিযোগে বেশ কয়েকটি ইরাকি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ওয়াশিংটন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের শুরুতে মার্কিন চাপে বাগদাদ দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ‘ডলার নিলাম’ (Foreign Currency Window) পদ্ধতিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর ডলার নিয়ন্ত্রণের কারণে ইরাকে একটি অনানুষ্ঠানিক খোলাবাজার (Parallel Market) গড়ে উঠেছে, যেখানে ডলারের দর সরকারি বিনিময় হারের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) নীতি জোরদার হওয়ায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার তীব্র টানাপোড়েনের মাঝে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিষ্ট হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।সেনা উপস্থিতি না থাকলেও ইরাকের মূল আর্থিক চাবিকাঠি এখনও মার্কিন ট্রেজারির হাতে আবদ্ধ রয়েছে, যা দেশটির পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌমত্ব অর্জনের পথে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম