প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চার দেয়ালের বন্দিত্ব থেকে মুক্তি, ঝমেলার পাশে জেলা প্রশাসক
তৌহিদুর রহমান, ঝিনাইগাতী শেরপুর প্রতিনিধি ||
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ৭০ পেরোনো ঝমেলা দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করে আসছিলেন। প্রায় ১০ বছর ধরে চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি জীবন কাটছিল তাঁর। চলাফেরার সামর্থ্য না থাকায় ঘর থেকে বের হতে পারতেন না তিনি। সম্প্রতি ঝমেলার অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নজরে আসে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের। সোমবার জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন নিজে ঝমেলা বেগমের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার খোঁজখবর নেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি ঝমেলা বেগমের জন্য বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি দুই বান্ডিল টিন, একটি হুইলচেয়ার এবং দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের পক্ষ থেকে ঝিনাইগাতী, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জাহিদুল হক মনিরের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে পূর্বের অনুদানের পাশাপাশি নতুন করে একটি ঘর নির্মাণ, বাড়ির ভিটায় মাটি ভরাট, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান এবং এক মাসের শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।এ সময় শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।দীর্ঘ প্রায় এক দশক ঘরবন্দি থাকার পর হুইলচেয়ার পেয়ে এখন কিছুটা স্বস্তিতে চলাফেরার সুযোগ পাচ্ছেন ঝমেলা। প্রশাসনের এই সহযোগিতায় তাঁর জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।স্থানীয়রা জানান, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে প্রশাসন দাঁড়ালে তাদের জীবনে আশার আলো তৈরি হয়। ঝমেলার পাশে জেলা প্রশাসনের দাঁড়ানোর ঘটনাটি মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন তারা।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঝমেলার মতো অসহায় মানুষের পাশে ভবিষ্যতেও প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম