বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

‘ক্রসফায়ার’ বন্ধ, এখন যে প্রস্তাব পুলিশের


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

‘ক্রসফায়ার’ বন্ধ, এখন যে প্রস্তাব পুলিশের
ছবি: সংগৃহীত

অপরাধীদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভয় কমে যাওয়া এবং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বাড়তে পারে এবং এতে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মর্নিং মিটিংয়ে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পুলিশিং আরও জোরদার এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় কর্মকর্তারা বলেন, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামিদের একটি অংশ আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দ্রুত জামিন পেয়ে যাচ্ছে। তদন্তে দুর্বলতা ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয়ও আলোচনায় আসে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার প্রস্তাব দেন কর্মকর্তারা।

বর্তমানে ক্রসফায়ার না থাকায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অপরাধীদের ডিটেনশনে নেওয়ার প্রস্তাবও সভায় আসে। তবে ঢালাওভাবে আটক না করে অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য ও ডেটাবেজের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়।

মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা বলেন, বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে মাদকের যোগসূত্র রয়েছে। এ কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে অধিদপ্তরটির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

সভায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার সদস্যের বিশাল এই বাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে যে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা দূর করে পুলিশকে আরও সুসংগঠিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, একদিনে পরিবর্তন সম্ভব নয়; এর জন্য ধারাবাহিক পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন।

মর্নিং মিটিংয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত অপরাধের ঘটনাও পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে হামলা, মোহাম্মদপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলা, ইসিবি এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর, আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, মাদক কারবারি ‘পিচ্চি রাজা’র প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া, কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের বিষয় উঠে আসে।

পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে শুধু গ্রেফতার বা অপরাধের পরিসংখ্যানের দিকে না তাকিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা বলেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কাজের স্বচ্ছতা এবং পুলিশি সেবার মান বাড়ানোর মাধ্যমে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

পরে পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় (ক্রাইম কনফারেন্স) আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা যাবে না। কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

ক্রাইম কনফারেন্সে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


‘ক্রসফায়ার’ বন্ধ, এখন যে প্রস্তাব পুলিশের

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অপরাধীদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভয় কমে যাওয়া এবং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বাড়তে পারে এবং এতে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মর্নিং মিটিংয়ে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পুলিশিং আরও জোরদার এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় কর্মকর্তারা বলেন, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামিদের একটি অংশ আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দ্রুত জামিন পেয়ে যাচ্ছে। তদন্তে দুর্বলতা ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয়ও আলোচনায় আসে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার প্রস্তাব দেন কর্মকর্তারা।

বর্তমানে ক্রসফায়ার না থাকায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অপরাধীদের ডিটেনশনে নেওয়ার প্রস্তাবও সভায় আসে। তবে ঢালাওভাবে আটক না করে অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য ও ডেটাবেজের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়।

মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা বলেন, বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে মাদকের যোগসূত্র রয়েছে। এ কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে অধিদপ্তরটির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

সভায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার সদস্যের বিশাল এই বাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে যে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা দূর করে পুলিশকে আরও সুসংগঠিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, একদিনে পরিবর্তন সম্ভব নয়; এর জন্য ধারাবাহিক পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন।

মর্নিং মিটিংয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত অপরাধের ঘটনাও পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে হামলা, মোহাম্মদপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলা, ইসিবি এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর, আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, মাদক কারবারি ‘পিচ্চি রাজা’র প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া, কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের বিষয় উঠে আসে।

পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে শুধু গ্রেফতার বা অপরাধের পরিসংখ্যানের দিকে না তাকিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা বলেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কাজের স্বচ্ছতা এবং পুলিশি সেবার মান বাড়ানোর মাধ্যমে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

পরে পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় (ক্রাইম কনফারেন্স) আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা যাবে না। কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

ক্রাইম কনফারেন্সে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream