নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও)-র বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগ তোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. শাহনাজ আক্তারের বিরুদ্ধেই এবার শারীরিক নির্যাতন, গোপন ছবি তুলে অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে সৈয়দপুর থানায় উপস্থিত হয়ে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. জাহানাহ্ বেগম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, কিছুদিন আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক মোছা. শাহনাজ আক্তার এটিইও মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া ও অনিয়মের নানা অভিযোগ তুলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রেক্ষিতে এটিইও তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ ও অনিয়মের সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এদিকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম অভিযোগ তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এই কমিটিকে একইসাথে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে স্কুলটির জমিদাতা ও সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম পাটোয়ারীর করা অভিযোগও তদন্ত করার এবং ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর মাঝে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সৈয়দপুর থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে সহকারী শিক্ষক জাহানাহ বেগম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ২৩ বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত। মোছা. শাহনাজ আক্তার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জিনিস চুরির জন্য দোষারোপ করাসহ তার ওপর নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।
বিদ্যালয়ে কর্মরত আরেক সহকারী শিক্ষিক বেবী খাতুন সাক্ষাতে এবং নীলফামারী জেলা পিটিআই এর বিটিপিতে প্রশিক্ষণরত সহকারী শিক্ষিক সাবরিনা আক্তার ও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা আরেক সহকারী শিক্ষিকা সোনিয়া আক্তার মুঠোফোনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। তারা বলেন, বিদ্যালয়ে সব সময় অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করে ও মানসিক অশান্তির মধ্যে থাকতে হয়।
অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষিকা মোছা. জাহানাহ্ বেগম থানায় লিখিত অভিযোগে আরও জানিয়েছেন, এটিইও মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতারের আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি ওই আবেদনে সহকারী শিক্ষক জাহানাহ্ বেগম ও সহকারী শিক্ষক বেবী সম্পর্কেও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অত্যাচারে বর্তমানে কর্মরত ভুক্তভোগী দুই শিক্ষক যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে পারে আতঙ্কে নিরাপত্তার স্বার্থেই আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা আরও জানান, ইতোপূর্বে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ৫টি বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সব জায়গায় সহকারীদের সাথে তার মারামারি, ঝগড়া বিবাদের রেকর্ড আছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোন কথা হয় শাহনাজ আক্তারের সাথে। তিনি বলেন, মূলত: এটিইও তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ধামাচাপা দিতে এবং তদন্ত কার্যক্রমকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সহকারী শিক্ষক জাহানাহ বেগমকে দিয়ে থানায় এমন মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করিয়েছেন। তাদের এই চক্রান্ত তদন্ত হলেই ধরা পড়বে বলে দাবি করে তিনি বলেন, আমি কি হুমকি দিবো, বরং ওই শিক্ষক স্কুল এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় আমাকেই উল্টো নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। এ নিয়ে আগেই আমি অভিযোগ করেছি।
মতামত