মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তিগতভাবে পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের সময় শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পড়ানোর অভিযোগে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মৃর্জাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র মণ্ডল। এ সময় বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনি বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র মণ্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কিছু দুর্বল ছাত্র আমি পড়াই। ওরা মাসে ৫০০ টাকা করে দেয়। এখন আপনি বারণ করলে আর পড়াব না।”
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ৫০০ টাকা নিয়ে তাদের পড়ানো হচ্ছিল। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগতভাবে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষাদানের কাজে ব্যবহার করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক যদি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে পড়ান, তাহলে এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরির আশঙ্কা থাকে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত আয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্কুলে এভাবে পড়ানো ঠিক নয়। আমি তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”
অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মতামত