শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের নিজ বাড়িতে আলমারি খুলে এমন দৃশ্য দেখতে পান তোফাজ্জল। টাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তোফাজ্জল হোসেন প্রায় ১০-১২ বছর ধরে কৃষিকাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। এর আগে ঢাকায় রিকশা চালিয়েও অর্থ উপার্জন করেছেন। স্ত্রী ও তিন মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ধীরে ধীরে টাকা জমাচ্ছিলেন তিনি। জমি বন্ধক রেখে পাওয়া অর্থও ওই সঞ্চয়ের মধ্যে ছিল। দহবন্দ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ছোবেদ আলী জানান, মেয়েদের বিয়ে ও পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য তোফাজ্জল টাকা জমিয়েছিলেন। ব্যাংকে না রেখে নগদ অর্থ কাঠের আলমারিতে সংরক্ষণ করেছিলেন। পরে আলমারি খুলে দেখতে পান, ইঁদুর ও উইপোকায় টাকাগুলো কেটে নষ্ট করে ফেলেছে। তোফাজ্জাল হোসেন বলেন, স্ত্রী ও তিন মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি টাকা জমিয়েছিলেন। জমি বন্ধক রেখেও অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সেই সঞ্চয় এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন দিশেহারা। সরকারের সহায়তা চেয়ে তিনি বলেন, এই অর্থ তাঁর কাছে শুধু টাকা ছিল না; এর সঙ্গে পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বহু বছরের শ্রম জড়িয়ে ছিল। সঞ্চয় হারিয়ে তিনি নিজেকে নিঃস্ব মনে করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা খলিল বলেন, ঘরে নগদ অর্থ রাখলে তা নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। পুরোনো কাঠের আলমারিতে টাকা রাখার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। কৃষকের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এভাবে নষ্ট হওয়ায় স্থানীয়রাও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দীর্ঘদিন ধরে জমানো দুই লাখ টাকা কাঠের আলমারিতে রেখেছিলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন। কিন্তু সেই সঞ্চয় আর রইল না। ইঁদুর ও উইপোকার আক্রমণে আলমারিতে রাখা টাকার বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে।
আলমারিতে রাখা ২ লাখ টাকা নষ্ট করল ইঁদুর-উইপোকা
মতামত