রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জশিট আজ রোববার (২৪ মে) আদালতে দাখিল করা হতে পারে। ডিএনএ টেস্ট, ময়নাতদন্ত এবং ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক চার্জশিট প্রস্তুতের কাজ চলছে। তিনি বলেন,
“ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডিএনএসহ বিভিন্ন ফরেনসিক প্রতিবেদন চূড়ান্তভাবে যাচাই-বাছাই করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রোববারের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হতে পারে।”
শনিবার (২৩ মে) তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পান। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, মামলার সব ফরেনসিক রিপোর্ট ইতোমধ্যে গুরুত্বের সাথে প্রস্তুত করে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত ২১ মে রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত রামিসার পল্লবীর বাসা পরিদর্শনে যান এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববারের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে এক কর্মশালায় অংশ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন,
“ঈদের আগেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হলে ঈদের পরপরই দ্রুততম সময়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে। সরকার রামিসা হত্যাকাণ্ডের মামলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন মামলাগুলোও অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।”
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে নির্মমভাবে শিকার হওয়া শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই রোমহর্ষক ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
ঘটনার পরদিনই অর্থাৎ ২০ মে মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালত তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্ত জাকির হোসেন কৌশলে শিশু রামিসাকে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে গিয়ে এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি আলামত নষ্টের চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ে তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

