সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থাকা এবং বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যাওয়া চালক কাজী বিল্লাল হোসেনের বদলির দাবিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
গত ৮ জুন ২০২৬ (সোমবার) সকাল ১১টায় সামাজিক সংগঠন ‘সিলেট নাগরিক অধিকার পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে সিলেট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট জেলার বেকারত্ব দূরীকরণে সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে কিছু সুবিধাবাদী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন।
দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য: চালক কাজী বিল্লাল হোসেন বিগত ২০০৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত টানা ২০ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীদের সুপারিশকে কাজে লাগিয়ে তিনি বদলি ঠেকিয়ে রাখেন।
স্থানীয়দের সাথে দুর্ব্যবহার: দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকার সুবাদে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় জনগণের সাথে দুর্ব্যবহার, সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে উপহাস এবং প্রশিক্ষণ নিতে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের চরিত্র হননের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তারও একই প্রতিষ্ঠানে (ডিজেল/অটো ওয়ার্কশপ অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে) দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কর্মরত আছেন।
কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: গাড়ি চালক হয়েও কাজী বিল্লাল হোসেন বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়। দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর এলাকায় তার ১ কোটি টাকার বাড়ি, ১০টি সিএনজি অটোরিকশা এবং নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। টিটিসির ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাত থেকে তিনি এই অর্থ উপার্জন করেছেন।
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সিলেট নাগরিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ ওই চালকের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের এপ্রিল ২০২৬-এ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিচালনা) প্রকৌশলী বি.এম. শরিফুল ইসলাম তদন্তে আসেন।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা সিলেটে অবস্থানকালীন সময়ে তার সমস্ত পর্যটন ও ভ্রমণ খরচ কাজী বিল্লাল বহন করেন এবং ১ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে বিল্লালের সাজানো ৪ জন সাক্ষীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তার পক্ষে একটি একপেশে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন।
আওয়ামী স্বৈরাচারী মনোভাবাপন্ন ও দুর্নীতিগ্রস্ত এই চালকের কারণে সিলেট টিটিসির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে উল্লেখ করে, অনতিবিলম্বে কাজী বিল্লাল হোসেনকে সিলেট থেকে বদলি এবং তার অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সিলেট নাগরিক অধিকার পরিষদ।

