সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর :
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দিনাজপুর শহরের রেলবাজার এলাকার টগেন বাবুর মাঠে বসা অস্থায়ী পশুর হাট এখন জমজমাট। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো হাট এলাকা। দেশীয় জাতের গরু, ষাঁড় ও কোরবানির উপযোগী বিভিন্ন পশুর বেচাকেনায় হাটজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
হাটে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিশাল আকৃতির এক কালো-সাদা রঙের ষাঁড়। নাম তার ‘রাজাবাবু’। বিশাল দেহ আর শান্ত স্বভাবের কারণে হাটে আসা সবার নজর কেড়েছে গরুটি। বিক্রেতাদের দাবি, এবার এই হাটের সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় গরু হচ্ছে ‘রাজাবাবু’।
গরুটির মালিক দিনাজপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, গত চার বছর ধরে নিজের বাড়িতেই অত্যন্ত যত্নে রাজাবাবুকে লালন-পালন করেছেন তিনি। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার, ঘাস, খৈল, ভুসি ও বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্য খাইয়ে বড় করা হয়েছে গরুটিকে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি তার।
তিনি বলেন, “রাজাবাবুর ওজন প্রায় ১৫ মণ। অনেক কষ্ট করে গরুটি বড় করেছি। এখন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। তবে আমরা সাড়ে সাত লাখ টাকা দাম চাচ্ছি। আশা করছি ভালো দামেই বিক্রি হবে।
রাজাবাবুকে এক নজর দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন হাটে আসা দর্শনার্থী ও ক্রেতারা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার গরুটির গঠন ও স্বাস্থ্য দেখে প্রশংসা করছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
হাটে গরু কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, এ বছর বড় গরুর পাশাপাশি মাঝারি আকারের দেশীয় গরুর চাহিদাও বেশ ভালো। দাম কিছুটা বেশি হলেও সুস্থ ও দেশীয় গরুর প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে।
এদিকে হাট ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা আরও বাড়ছে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত গরু আসছে এই অস্থায়ী পশুর হাটে। ক্রেতাদের ভিড়ে অনেক সময় হাটে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না।

