রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি):
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র চার দিন বাকি। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ‘নতুন বাজার মাঠ’ কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। পাহাড়ি গরুর ব্যাপক আমদানির কারণে হাটটি এখন বেশ জমজমাট। তবে বাজারে মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
লাভের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে শত শত পাহাড়ি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিলাইছড়ির ফারুয়া, তত্তানালা, আলিখেয়ং এবং বরকল ও মাইনি থেগা সহ বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ট্রলার ও বিভিন্ন যানবাহনে করে এসব গরু হাটে আনা হয়েছে। কোনো কোনো বড় ব্যবসায়ী ৮০টি, কেউ ৫০টি, আবার কেউ ২০ থেকে ২৫টি করে পাহাড়ি গরু বিক্রির জন্য এই হাটে তুলেছেন।ক্রেতার ভিড় বেশি, বেচাকেনা এখনো ধীর হাট ঘুরে দেখা গেছে, পশুর চেয়ে হাটে মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি।
তবে অধিকাংশ মানুষই এখন হাট ঘুরে দেখছেন এবং দরদাম করছেন। একদম শেষ মুহূর্তে কোরবানির পশু কিনতে চান বলে অনেকে এখনো চূড়ান্ত কেনাকাটা করছেন না। আবার কেউ কেউ শেষ মুহূর্তের ভিড় ও বাড়তি দামের আশঙ্কায় এখনই পছন্দের পশুটি কিনে বাড়ি ফিরছেন।
স্থানীয় বাজারে বেচাকেনা কিছুটা ধীরগতির হলেও পাইকারি ব্যাপারীরা বসে নেই। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীরা এখান থেকে দলবেঁধে গরু কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন।
সার্বক্ষণিক দায়িত্বে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
হাটে আসা গরুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে কাপ্তাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। মেডিকেল টিমের সদস্যরা নিয়মিত হাট তদারকি করছেন। কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সেটিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,”হাটে আসা পশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের ভেটেরিনারি টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে সুস্থ পশু কেনাবেচা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”এদিকে হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জাল নোটের কারবার রোধ ও হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের কড়া নজরদারি চোখে পড়েছে। এখন পর্যন্ত হাটে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেনাবেচা চলছে।

