জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
ঈদকে ঘিরে যখন দেশের শহর-গ্রামে শিশু-কিশোররা বাবা-মায়ের সঙ্গে নতুন পোশাক কেনাকাটা ও উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন শরীয়তপুরের একটি ইটভাটায় দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। সেখানে শৈশবের আনন্দ ভুলে কঠোর পরিশ্রমে দিন কাটাচ্ছে একদল শিশু-কিশোর শ্রমিক।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর এলাকার বাঔইকান্দি গ্রামের “নিউ ন্যাশনাল ব্রিকস” নামের একটি ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শিশু কাদা মেখে ইট তৈরি ও বহনের কাজে ব্যস্ত। তাদের বয়স আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।
সেখানে কথা হয় ১৩ বছর বয়সী রাকিবের সঙ্গে। সে জানায়, প্রতিদিন রাত ৩টা থেকে তাদের কাজ শুরু হয় এবং মাগরিব পর্যন্ত টানা শ্রম দিতে হয়। এই দীর্ঘ সময় কাজের বিনিময়ে সে পায় মাত্র ১৫০ টাকা।
রাকিব জানায়, তার মতো বয়সী আরও অনেক শিশু এই ইটভাটায় কাজ করছে। তাদের মধ্যে কেউ ১৩, কেউ ১৪ বা ১৫ বছর বয়সী। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তাদের এই কাজে নামতে হয়েছে।
জানা যায়, রাকিবের বাবা-মা ও তিন ভাই একই ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। পরিবারসহ তারা সেখানে বসবাস করছেন। ইটভাটায় কর্মরত অধিকাংশ শ্রমিকই সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দরিদ্র শ্রমিক পরিবারগুলো এখানে এসে বসবাস শুরু করে। পরিবারের সঙ্গে আসা শিশু-কিশোরদের অনেকেই পরে শ্রমিক হিসেবে কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী শিশু শ্রম নিরুৎসাহিত এবং অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তা অনেক জায়গায় কার্যকর হচ্ছে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জানতে ইটভাটাটির মালিক জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা খোকন তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, শিশুদের স্কুলে থাকার কথা থাকলেও দারিদ্র্য ও পারিবারিক চাপের কারণে তারা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্বাভাবিক শৈশব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঈদের আনন্দমুখর সময়ে অন্য শিশুরা যখন নতুন জামা আর উৎসবের অপেক্ষায় দিন গুনছে, তখন এসব শিশুদের দিন কাটছে ইটভাটার ধুলা, আগুন আর কঠোর শ্রমের মধ্যে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

