ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি বর্তমানে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তার অবস্থান নিশ্চিত করলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এখনো ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার মতো কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।
ডিবির তদন্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাপ্পি অবৈধ পথে ভারতে পালিয়ে যান। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি পুনরায় অবৈধ পথে বাংলাদেশে ঢুকে মাদারীপুরের শিবচরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে ফের ভারতে চলে যান। কলকাতা থেকেই তিনি হাদি হত্যার পুরো মিশনটি তদারকি করেছেন। এমনকি হাদিকে গুলি করার পর মূল শুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে নির্বিঘ্নে ভারতে পালানোর ব্যবস্থাও তিনি করে দেন।
সূত্র মতে, বাপ্পি কলকাতার রাজারহাটের ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি মেঠোপাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাটে আত্মগোপন করেছিলেন। সেখানে তার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফসহ আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন পলাতক নেতা ছিলেন। তবে ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার চার্জশিটে তার নাম আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি ওই ফ্ল্যাট ছেড়ে আত্মগোপন করেন। তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
ডিএমপির ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুনিরা অবৈধ পথে ভারতে যাওয়ায় তাদের সেখানে অবস্থানের কোনো ‘অফিশিয়াল’ প্রমাণ নেই। ফলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরাসরি ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তবে আদালতের অনুমতি পেলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। অভিযুক্তদের তালিকায় বাপ্পিকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামিদের মধ্যে বাপ্পি, শুটার ফয়সাল ও মোটরসাইকেল চালক আলমগীর এখনো পলাতক।
বাপ্পি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার ছত্রছায়ায় পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও খুনের মতো অপরাধে তার জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তার মা চৌধুরী ভিলায় গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি তার ছেলের জড়িত থাকার বিষয়টি বিশ্বাস করেন না।
হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজপথে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে তীব্র আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। খুনিদের অনতিবিলম্বে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও সহকর্মীরা।

