বিএনপির সহ–আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেছেন, রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা কোনো কার্যকর সমাধান নয়। তিনি বলেন, কাগজে-কলমে কোনো দল নিষিদ্ধ করা হলে এতে কোনো লাভ হয় না এবং এটি কোনো সমাধানও দেয় না।
রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে। তিনি উল্লেখ করেন, “পলিটিক্যাল পার্টিকে কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ করে কোনো লাভ হবে না। উদাহরণ হিসেবে জামায়াতকে উল্লেখ করে বলেন, শেখ হাসিনা লাস্ট মোমেন্টে এই দলটিকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। এর আগেও জামায়াত-শিবিরের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হয়েছে দলটিকে কোণঠাসা করে একেবারে শেষ করে দেওয়ার, কিন্তু সফল হননি। নিষিদ্ধ করলেও কোনো সমাধান হয় না।”
তিনি আরও বলেন, মুসলিম লীগের উদাহরণ তুলে ধরে, “মুসলিম লীগ এখনও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয়। এই দলের কর্মী, নেতা-সমর্থক, ভোটার সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। যে দল গত বছর বা গত ১৫ বছর ধরে নিষিদ্ধ ছিল, তারা প্রবল প্রতাপে রাজনীতির মাঠে কাজ করছে। কাগজে কলমে নিষিদ্ধ করলেই কিছু হবে না, যদি মানুষের মন থেকে তাদের সরানো না যায়।”
রুমিন ফারহানা একটি নতুন জোটের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “শোনা যাচ্ছে, ১৬টি রাজনৈতিক দল নিয়ে একটি নতুন জোট তৈরি হতে পারে। এতে আওয়ামী লীগের এমন মানুষরা আসতে পারে যারা কোনো বড় পদে ছিলেন না, মন্ত্রী বা এমপি হননি এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের দায় নেই, কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সফট কর্নার ধারণ করেন।”
তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন বানচালের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এটি আমি বলছি না। এটা স্বয়ং শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন একটি ইন্টারভিউতে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে—এই নির্বাচনকে বানচাল করতে চাই যদি সেটা আওয়ামী লীগকে ছাড়া হয়।”
রুমিন ফারহানা বলেন, সম্প্রতি ডেভিড বার্গম্যানের একটি জরিপে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের ২,৫০০ জন তরুণের ওপর জরিপ করা হয়েছে। সারা দেশে করা এই জরিপে দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে ২০ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেবে, ১৭ শতাংশ জামায়াতকে এবং ৯-১০ শতাংশ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। এছাড়া সবচেয়ে বড় অংশ কোনো দলের প্রতি সমর্থন নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, “আইন করে যতোই কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা হোক না কেন, মানুষ যদি তাদের ভোট দেয়, আপনি-আমি বা নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই।”

