নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দন্ত চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক সাংবাদিক চিকিৎসকের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হাসপাতালের সেবাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগকারী সত্যজিৎ দাস,যিনি বাংলা এফএম ও দৈনিক প্রভাকর পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান,রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তীব্র দাঁতের ব্যথা নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ দিন ধরে দাঁতের সমস্যায় ভোগার পর তিনি হাসপাতালের শরণাপন্ন হন।
তার অভিযোগ,হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখতে পান দন্ত চিকিৎসকের ২০ নম্বর কক্ষ তালাবদ্ধ। পরে তিন টাকার টিকিট সংগ্রহ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী তাকে ১৭ নম্বর কক্ষে যেতে বলেন। সেখানে গিয়েও সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টকে না পেয়ে হাসপাতালের এক কর্মচারীর পরামর্শে তিনি পুনরায় ২০ নম্বর কক্ষে যান।
অভিযোগে বলা হয়,সকাল প্রায় ৯টা ৩৮ মিনিটে দন্ত চিকিৎসক ডা. জুবায়ের খানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। এ সময় দাঁতের সমস্যা দেখানোর পর চিকিৎসক তার সঙ্গে রূঢ় ও অপেশাদার আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন সত্যজিৎ দাস। তার দাবি,চিকিৎসক তাকে বলেন,‘রুট ক্যানেল করতে হবে,না হলে ভবিষ্যতে দাঁত ফেলতে হবে। এখানে এ ধরনের চিকিৎসা নেই, ওসমানীতে যান।’
সত্যজিৎ দাস আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসক প্রথমে প্রেসক্রিপশনে ওষুধ না লিখে সাদা কাগজে কয়েকটি ওষুধের নাম লিখে দেন। পরে তিনি নিজের পেশাগত পরিচয় দেওয়ার পর প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দেওয়া হয়।
ঘটনায় নিজেকে মানসিকভাবে অপমানিত ও হয়রানির শিকার দাবি করে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং জেলা সিভিল সার্জনের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন,অভিযোগের হার্ড কপি জমা দিতে বলা হয়েছে। ঈদের ছুটির পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন জানান,লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সিভিল সার্জনের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য,সত্যজিৎ দাস ২০১০ সাল থেকে জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ করছেন এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে নিয়মিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন।

