আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ পেশ করেছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রস্তাবিত এই বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (৬ জুন) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ উপস্থাপন করেন।
সততা ও জবাবদিহিতা থাকলে এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব: জামায়াতের আমির
বাজেট উপস্থাপনকালে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এই বাজেট কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য দিচ্ছি না, এই বাজেট দেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের। আমরা জনগণের সামনে যে প্রস্তাবনা পেশ করেছি, তা অর্জনের কিছু শর্ত আছে। সততা, স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা থাকলে এই বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কিন্তু সরকার যে বাজেটই দিক না কেন, জবাবদিহিতা না থাকলে তা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।”
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থবছর (জুলাই-জুন) পরিবর্তনের প্রস্তাব এনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুন মাস সাধারণত দেশে বর্ষা, খরা ও সাইক্লোনের সময়। আমরা লক্ষ্য করি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) একটি বিশাল অংশ শেষের দুই মাসে তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি আসলে উন্নয়ন নয়, এটি হচ্ছে ‘গণ লুটপাট’। এর সুফল জনগণ পায় না। তাই আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব—আমাদের অর্থবছর যেন ক্যালেন্ডার ইয়ারের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) সঙ্গে মিলিয়ে করা হয়। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের উন্নয়নের টাকা ধুয়ে-মুছে সাফ হবে না।”
বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, “আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবাদিকতাসহ সমস্ত জায়গায় আজকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ স্পষ্ট। সমাজের অপরাধী চরিত্রদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
পূর্ববর্তী সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েই আমরা সংসদে গিয়েছিলাম। দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হলেও তারা (সরকার) একটির শপথ নিলেন, আরেকটির নিলেন না। গণভোটকে তারা অস্বীকার করলেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যদি এভাবে জনগণকে ধোঁকা দেয়, তবে রাজনৈতিক দলের ওপর মানুষের আস্থা থাকবে কীভাবে? দুই-তৃতীয়াংশের জোরে সরকার আমাদের দাবি অগ্রাহ্য করে জনগণকে অপমান করেছে।”

