এস কে রাসেল, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি;
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর সরকারি দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুইজন সরকারি অফিস সহায়ক আহত হয়েছেন। হামলার অভিযোগে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
জানা গেছে, রোববার (৭ জুন) সকালে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাহিয়ান নূরেনের নেতৃত্বে উপজেলার কালিনগা নদী এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত দুটি ড্রেজারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুটি ড্রেজার অপসারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান শেষে প্রশাসনের টিম ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে উপজেলার ভাঙ্গা রামচন্দ্রপুর এলাকায় মজনু মিয়ার বাড়ির সামনে একদল ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ড্রেজারবিরোধী অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় শুভ (২২), আব্দুর রাজ্জাক (৩২), আমজাদ (৫৫)সহ কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেয়। হামলাকারীরা অফিস সহায়ক রুবেল হোসেনকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয় এবং তার ওপর আঘাত করে। মাথায় হেলমেট থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও হামলার সময় ব্যবহৃত হাতুড়ির আঘাতে তার হেলমেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
একই সময়ে অফিস সহায়ক পলাশ মিয়ার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হামলাকারীরা আরও কয়েক দফা আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সঙ্গে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পলাশ মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জের মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার জানান, সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নূরেন বলেন, “সরকারি দায়িত্ব পালনরত কর্মচারীদের ওপর হামলা এবং প্রাণনাশের চেষ্টা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হামলার মাধ্যমে প্রশাসনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কালিনগা নদীসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

