মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল-ইরান উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন অর্থনৈতিক তথ্যকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ হাজার ৩৩৩ ডলারে স্থির ছিল। আগের কার্যদিবসে মূল্যবান ধাতুটির দাম দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারস সামান্য কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫৭ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় থাকায় বড় ধরনের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন ব্যবসায়ীরা।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় উভয় দেশ হামলা বন্ধের কথা জানালেও তেহরান স্পষ্ট করেছে, আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে পারে।
এদিকে, শক্তিশালী শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করছে আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফলে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের দিকে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় অব্যাহত থাকলে বছরের শেষ দিকে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। তবে এর জন্য ডলারের শক্তি, বন্ডের মুনাফা ও জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা প্রয়োজন হবে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। রুপা ও প্লাটিনামের দাম কিছুটা কমলেও প্যালাডিয়ামের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

