বহুমুখী প্রতিভার কবি রহিম ইবনে বাহাজ

 

রহিম ইবনে বাহাজ একজন আপদমস্তক কবি হলেও তাঁর হাত ধরে এসেছে প্রবন্ধও। সেই হিসেবে তিনি এ সময়ের একজন কবি ও প্রাবন্ধিক। তবে বিস্তৃত অর্থে তার প্রতিভা বহুমুখী। রহিম ইবনে বাহাজ একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। সংসারের কঠিন সময়ে আবদ্ধ থেকেও তিনি নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করছেন। সাহিত্য তার ধ্যান। ব

র্তমান জীবনে আসার আগে তিনি কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন চলচ্চিত্র জগতে। সেখানে বেশ কিছুদিন দক্ষতার সাথে কাজ করেছিলেন। তার আগে থেকেই তিনি লিখছেন। তার কলমে জীবন যন্ত্রণা, জীবনের সংগ্রাম বোধ, ঘাত-প্রতিঘাত উঠে এসেছে। তিনি  ৮ মার্চ ১৯৮৭ সালের জামালপুর জেলা মেলান্দহ উপজেলা তেঘরিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম বাহাজ উদ্দিন এবং তার মা রহিমা বেগম। দু’জনেই এখন পরপারের বাসিন্দা।

কবির লেখালেখির শুরু ছড়া দিয়ে হলেও তিনি এখন গান, কবিতা, প্রবন্ধ, কলাম এবং টেলিভিশনের নাট্য পরিচালক এবং সংলাপ রচয়িতা। তার লেখালেখির শুরুটা একদম অল্প বয়সে। তবে পরিপক্কতার দিকে তিনি কবিতা ধরেছেন তারও বেশ পরে। তাঁর প্রথম নাটক ‘ময়নার দ্বিতীয় অধ্যায় বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। ‘ তাঁর  নির্দেশিত লিটল ম্যাগাজিন ” সাহিত্যের আলো” অনিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।

জাতীয় দৈনিক,লিটল ম্যাগাজিন এবং দেশ-বিদেশে অনলাইনেও নিয়মিত লিখছেন। তার প্রথম কাব্যগ্রনথ নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। জীবনের অর্থ বাস্তবিকভাবে কি এবং এর দর্শন হয় ভিন্ন ভিন্ন। প্রতিটি কবিতার প্রতিটি শব্দই যেন মানুষের জীবনের মুহূর্তগুলোকে ফুটিয়ে তোলে। কিছু কিছু মানুষের জীবন যে দূর্বা ঘাসের মতো অমিত সহ্যশক্তি ধারণ করে প্রকৃতির সব খামখেয়ালিপনা এবং অত্যাচার সহ্য করেও টিকে থাকে সেরকমই হয়। জীবনের এই অংশটি মৌলিক সত্য এবং পৃথিবীর একটি বড় অংশই দূর্বা জীবনের স্বাক্ষী। কাব্যগ্রন্থের অন্তভুর্ক্ত কবিতাগুলোতে এক অদ্ভূত দুর্বোধ্য অধ্যায়, অতৃপ্তির মাঝে নিজেকে বারবার গড়ে তোলার প্রাণান্ত প্রচেষ্টা এবং এই বিভক্ত সময়ের কাছে প্রাপ্য দাবীর অনুভূতি প্রবলভাবে লক্ষ্যণীয়।

কবি রহিম ইবনে বাহাজ সমসাময়িক কবিদের মধ্যে অন্যতম। তার প্রতিটি কবিতা জীবনকেন্দ্রীক এবং একটি অর্থবহন করে। তার লেখা কবিতাগুলোর কোথাও যেন রয়েছে এক ধরনের হতাশা,গভীর ক্লান্তবোধ,নৈরাশ্যবাদ,বিরহ,যন্ত্রণা,ভালোবাসা পাওয়া আকুতি এবং এসব থেকে আত্নগ্লানির সৃষ্টি। সেক্ষেত্রে বলা যায় কবিতাগুলোতে কোথাও কোথাও জীবনানন্দের কিছুটা প্রভাব গভীরভাবে রয়েছে। হয়তো অনুভূতিতে সামঞ্জস্য থাকায় এভাবেই কিছুটা মিলে গেছে। কবির দূর্বা জীবন কাব্যগ্রন্থের শুরু হয়েছে যে কবিতা দিয়ে তার শিরোনাম-’নিঃশ্র ইতির ঘন্টা বেজে গেলে’।

যেখানে কবি বলেছেন, ’ আমার নিঃশ^াসের ইতির ঘন্টা বেজে গেলে আমাকে এখানে কোথাও রেখে যেও/স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও অপমৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে লাশ কাটা ঘরে পৌছে দিও/অন্তসার শুন্য এই আমি, আমার তো কিছুই নেই। কবিতায় যে শব্দগুলো চয়ন করা হয়েছে সেখানে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সর্বোপরি নিজেকে অন্তর্দহনে দগ্ধ করার অভিপ্রায় এসেছে। কবি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রকৃতির উপাদানগুলোকে জীবনের সাথে মিলিয়ে এক চমৎকার ভাবের আবহ তৈরি করেছেন। আবার সুক্ষè প্রেমের চিত্রও লিখেছেন।

এই যেমন- কবির ’হে পথহারা নদী’ কবিতায় লিখেছেন, ’ প্রবাদ বাক্যের মতোই ধ্রুব চির অমর তুমি/কাকডাকা ভোরে বালুকণা বারবার চুমি/ গগনে মেঘ নেই, অথচ তুমি শ্রাবণধারা/ আমি ভালো আছি সমাজে, তুমি হয়েছ পথহারা। কবির প্রেম এবং বিরহ তুলে আনতেও চূড়ান্ত দক্ষতার পরিচয় মিলেছে। তবে সেই ক্ষণ অবশ্যই মিলনের নয় ব্যর্থতার। প্রিয়ার চোখের জল কবিকে পোড়ায়। অন্তরে সৃষ্টি করে গভীর ক্ষত। সেই ব্যাথা যখন পাঠকের বুকে ছড়িয়ে পরে তখন কবির পদ্যের স্বার্থকতা আসে। কবিমন নিজেকে পোড়ায় আবার পাঠককেও তৃষিত করে। কাব্যের এখানেই উৎকর্ষতা।

কবির প্রবন্ধগুলোও সমসাময়িক সাহিত্যের জীবনাচরণ। এছাড়া কবির লেখা কলামগুলোও সুখপাঠ্য। কবির প্রথম প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থের নাম দূর্বা জীবন ২০২২ এবং দ্বিতীয় গ্রন্থটি প্রবন্ধের  বই ” দিন যাপনের গ্লানি ‘ ২০২৩। এর মধ্যেই তিনি পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার পুরস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে সৈকত সাহিত্য সংসদ বিশেষ সম্মাননা-২০২৩ এবং একই বছর শব্দঘর জামালপুর সাহিত্য পরিবার ” দিন যাপনের গ্লানি ” প্রবন্ধের জন্য  সেরা পুরস্কার ও সসম্মাননা। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে’ কর্মরত। ব্যক্তি জীবনে আমি কবিকে কঠের পরিশ্রমী এবং কবিতার জন্য নিবেদিত প্রাণ দেখেছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বিষয়: * শিল্প-সাহিত্য
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ