নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছেন তরুণ ভোটাররা

জবি প্রতিনিধি:
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর মাত্র ২ দিন বাকি। ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণার জন্য নির্ধারিত সময়ও শেষ হবে শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টায়। এখন শুধু অপেক্ষা ভোটের দিনের। আর সেই অপেক্ষার সময়ও বেশি নেই। মাত্র ২ দিন পর রোববার (৭ জানুয়ারি ) ভোটগ্রহণ হবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের।
ভোটের আগে ও ভোটের দিনের সমীকরণ নিয়ে ব্যস্ত প্রার্থীরা। তেমনিভাবে উত্তেজনাময় সময় কাটাচ্ছেন ভোটাররাও। কাকে ভোট দেবেন, কেন ভোট দেবেন- এসব নানা বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন তারা।
বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভোটারদের একটি বড় অংশ তরুণ। যাদের বয়স ১৮ থেকে শুরু করে ৩০ বছরের মাঝে। তরুণ ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতিহারেও ছিল বিশেষ আয়োজন।
যাদের নিয়ে এত আয়োজন সেই তরুণ ভোটাররা নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন তা জানার চেষ্টা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোটার্স ইউনিটির সহসভাপতি এবং নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের ভোটার তাসদিকুল হাসান বলেন,গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থায় ভোট নাগরিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তরুণ ভোটাররা। এবারই  আমার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেয়ার সুযোগ এসেছে। তাই বিশেষ উদ্দীপনা কাজ করছে ৭ জানুয়ারির জন্য। তবে আমার সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেনা মাঠের প্রধান বিরোধী দল, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল এমনকি নেই সরকার দলীয় কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাই সাধারণ ভোটারদের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ তুলনা মূলক কম। আশা করছি এবার নির্বাচনটি কোন রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাত মেহবুবার কাছে নির্বাচন নিয়ে তার ভাবনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠ, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা করি। যেহেতু প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে নাহ তাই ততটা অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন না হলেও যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তারা আশা করি নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখবে এবং ভোটাররা তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে নাহ। নির্বাচন নিয়ে এটিই আমার প্রত্যাশা।
লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ভোটার  খালেদ বিন জিয়া বলেন, আমরা তরুন প্রজন্ম আমরা চাইলে সমাজ টা বদলে নতুন ভাবে গড়তে পারি। এর জন্য আমাদের সুষ্ঠু ভোট দানের মাধ্যমে যোগ্য নেতা নির্বাচন করতে হবে। তাই আমরা যেন স্বজন প্রীতি না দেখিয়ে, টাকার কাছে বিক্রি না হয়ে ভোট দিই, এবং এ ব্যাপারে সকল ভোটার দের সচেতন করা উচিত।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আরফিন আক্তার বলেন, এবার আমি প্রথমবারের মতো ভোট দিব।আমার ভোট আছে ভেবে ভালোই লাগতেছে। তবে আশেপাশে সবার অনিশ্চয়তার ভাবনা ভোট দিতে পারবে কি না তা নিয়ে আমার ও উদ্বেগ অনুভব হচ্ছে। ভোট আমার গনতান্ত্রিক অধিকার আমার ভোট আমি দিবো।তবে প্রতিযোগিতা মূলক নির্বাচন হলে ভোট দিয়ে আরো ভালো লাগতো।
যশোর জেলার সদর উপজেলার ভোটার  এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিব আদনান বলেন,ছোটবেলায় নির্বাচন বলতে দেখতাম এলাকায় একটি উৎসবের প্রস্তুতি। বয়সের পরিক্রমায় প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছি কিন্তু পরিবেশ দেখে মনে হয় দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই । জীবনের প্রথম ভোট নিয়ে আমার উদ্দীপনা থাকার কথা ছিল সেটা নেই বললেই চলে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারুক হোসেন বলেন, তরুন ভোটার হিসেবে আমি চাই সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। বাংলাদেশ একটি রক্তের বিনিময়ে কেনা স্বাধীন, গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র সুতরাং এখানে বৈশ্বিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। দেশে  অবকাঠামোগত  উন্নয়ন হচ্ছে অনেক, সাথে সাধারণ  মানুষের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর উন্নয়ন বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিকায়ন উন্নয়নে আরও নজর দিতে হবে যারাই সরকার গঠন করে।   অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দূর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি কায়েম না করতে পারলে সব উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়,সুতরাং সেদিকে খেয়াল দিতে হবে। মোটকথা বলতে গেলে নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বিষয়: * জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ