যে কারনে সিসিক নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন আরিফ

সদরুল আইনঃ
গতকাল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না বর্তমান মেয়র আরিফ।
 তিনি একটি নাগরিক সভা করে জানিয়ে দিয়েছেন যে আসন্ন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন না। আর এই প্রার্থী না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
 বলেছেন যে অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। গতকাল শনিবার সিলেট নগরীর রেজিস্ট্রি মাঠে নাগরিক সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।
এই ঘোষণা দেওয়ার ফলে একদিকে যেমন বিএনপিতে তার অবস্থান আরও পোক্ত হলো, তিনি খুব শিগগিরই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এমনকি স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বিজয় প্রায় সুনিশ্চিত হয়ে গেল। এই সিটি করপোরেশনে এখন নির্বাচন হবে অনেকটাই একতরফা এবং সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয়ের মোটামুটি নিশ্চিত বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।
সিলেটে গুঞ্জন উঠেছে তাহলে কি আনোয়ারকে বিজয়ী করার জন্যই আরিফ সরে দাঁড়ালেন? একাধিক দায়িত্বশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক এমনটি মনে করছেন। এর ফলে আরিফের উভয় দিক থেকে লাভ হলো বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
 আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দেওয়া বা আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা করে কেন আরিফ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে এই নির্বাচনে যদি আরিফ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতেন তাহলে আনোয়ারের বিজয় অনেক কঠিন হয়ে পড়ত এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হতো।
কিন্তু এই নির্বাচনে দাঁড়ালে সবচেয়ে ক্ষতি হতো আরিফের। তিনি বিজয়ী হলেও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন এবং ভবিষ্যতে সিলেটে বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্ব তার হাতে থাকতো না। নতুন নেতারা বেরিয়ে আসতো।
 আর এ কারণেই আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দিয়েছেন। এর ফলে তার আরেকটি লাভ হবে। আরিফুল হক চৌধুরী দুই মেয়াদে সিলেট সিটি করপোরেশেনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ফলে এই অভিযোগগুলোর মামলাগুলো আস্তে আস্তে স্থবির হয়ে পড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে এবং রাজনীতি করার ক্ষেত্রেও তিনি সরকারের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এর ফলে সিলেটের রাজনীতিতে আরিফ একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবেন।
আরিফ যদি নির্বাচন করতেন সে ক্ষেত্রে তার অনেকগুলো বিপর্যয় হতো বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এক সময় বিএনপির সিলেটের মধ্যে ছিল ইলিয়াস আলীর দখলে। কিন্তু ইলিয়াস আলীর নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এই রাজনীতি চাবি এসেছে আরিফের হাতে।
 আস্তে আস্তে শুধু সিলেট নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও তিনি একটা ফ্যাক্টরে পরিণত হয়েছেন। এই অবস্থায় যদি তিনি নির্বাচন করতেন তাহলে সিলেটের মেয়র হয়তো তিনি হতেন কিন্তু রাজনীতির মাঠে তিনি দেউলিয়া হয়ে যেতেন। এই ঝুঁকিটি তিনি নিতে চাননি।
দ্বিতীয়ত, এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তিনি সরকারের রোষানলেও পড়তে পারতেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা যেগুলো তদন্তাধীন রয়েছে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রচেষ্টা হতো। পাশাপাশি তিনি প্রবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়তেন।
 আর সবচেয়ে বড় কথা বলা হচ্ছে যে গত দুই মেয়াদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি কিছুই করেননি। এবার অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও তার পরাজয়ের একটা শঙ্কা ছিলো। তখন তিনি মেয়রও থাকতেন না, বিএনপি নেতৃত্বেও থাকতেন না।
আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি একজন নতুন। লন্ডনের রাজনীতি করেছেন। সিলেটের রাজনীতিতে তিনি এখনও অপরীক্ষিত। কিন্তু যেহেতু তিনি নতুন সেজন্য তার ভালো কিছু করার আগ্রহ ও উৎসাহ আছে। সিলেটে গত ১০ বছরে আসলে কোনো উন্নতি সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে হয়নি।
 এই বাস্তবতায় আরিফ বুঝতে পেরেছিলেন এবার ভোটাররা তার ব্যাপারে বিমুখ হতো। আর এ কারণে তিনি প্রার্থী হলেন না। আর তার প্রার্থী না হওয়াটা রাজনীতির হিসেব-নিকেশে তার জন্য লাভজনক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বিষয়: * সিসিক নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন আরিফ
সর্বশেষ সংবাদ