সাভারে চাঁদার দাবিতে হাত-পা বেধেঁ মারধর, আতঙ্কে বাড়িছাড়া এলাকাবাসী

 

 

 

আনিসুর রহমান, সাভার প্রতিনিধিঃ

 

সাভারে জমি বিক্রী করে নতুন বাড়ির কাজে হাত দেয়ায় ৬ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে মোঃ সেলিম শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে হাত-পাঁ বেধেঁ মারধর করার অভিযোগ উঠেছে নাঈম ও শহিদ মিয়ার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে।

এঘটনায় সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়িছাড়া হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ঐ ভুক্তভোগী। এরপরও সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধামকিসহ চাঁদা না দিলে তার ছেলে শামীমকেও হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। বিষয়টি জানিয়ে সাভার মডেল থানা ও র‌্যাব ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সেলিম শেখ। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরীও (নং-২৪৩০) দায়ের করেছেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে আবারও সন্ত্রাসীরা সেলিমের বাড়িতে হামলা চালানোসহ জমি থেকে জোরপূর্বক গোখাদ্য ঘাস কেটে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় পরিবারের লোকজন বাঁধা দেয়ায় নারীসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করে সন্ত্রাসী নাঈম ও শহিদ মিয়া গং। তাদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে জরুরী সেবা নাম্বার ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মারধরের শিকার এমারত হোসেন বলেন, সিটি ইউনিভার্সিটির মালিকের ভাতিজা আমাকে তার ম্যানেজার নাঈমকে দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আমাকে চুরির অপবাদ দিয়ে ভার্সিটির ভিতরে নিয়ে বেঁধে মারধর করে।

ভুক্তভোগী শামীম মিয়া বলেন, সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে আমরা বাড়িতে থাকতে পারছিনা। চাঁদার জন্য তারা বাড়িঘরে এসে হামলা চালাচ্ছে, ক্ষেতের ঘাস জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বাঁধা দিতে গেলে পরিবারের লোকজনকে মারধরসহ টেলিফোনে হুমকি দিয়েছে পান্না টেক্সটাইল মিলস মালিকের ভাতিজা রাকিন সুহৃদ। সে আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে হাত-পাঁ বেঁধে চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় সে আমার বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত পুর্বক প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত পান্না টেক্সটাইল মিলস মালিকের ভাতিজা রাকিন সুহৃদ বলেন, আমি তিন মাস পর আসছি এখানে। শামিম আর এমারত আমাদের তার চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি কিংবা আমার ম্যানেজার নাঈম কারও কাছে চাঁদা চাইনি। এসব মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক। তবে বিষয়টি জানার জন্য অভিযুক্ত নাঈমকে খুজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাড়ির মালিক ছাহারা খাতুন বলেন, বাড়ির কাজ ধরায় পান্না টেক্সটাইলের মালিকের ভাতিজা রাকিন সুহৃদ, নাঈম ও তার লোকজন আমাদের কাছে ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। বিষয়টি মেম্বার চেয়ারম্যানসহ সবাইকে জানিয়েছি। কিন্তু সন্ত্রাসীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা থানায় যেতে বলেছে। আমার পাশেই একজনের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ায় সে বাড়ির কাজ বন্ধ করে দিয়ে ভয়ে এলাকা থেকে চলে গেছে। নাঈম লোকজন নিয়ে গরুর খামারে নেশা করে এবং বিভিন্ন সময় এলাকার লোকজনের উপর চাঁদার দাবিতে নির্যাতন চালায়। এখানে থাকতে হলে তাদেরকে কথামতো চলতে হবে না হলে এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দিয়েছে আমাদের।

বিরুলিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার তাইজুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসী নাঈম ও শহিদ মিয়ার অত্যাচার ও চাঁদা দাবির বিষয়ে সেলিম শেখসহ অনেকেই আমাদেরকে জানিয়েছেন। বিষয়টি চেয়ারম্যানও জানেন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা প্রভাবশালীদের লোক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সাভার মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এনামুল বলেন, জরুরী সেবা নাম্বার ৯৯৯ এ কল পেয়ে আমরা ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেছি। এখানে যারা ভুক্তভোগী রয়েছেন এবং যারা অভিযোগ করেছেন তাদের কাছ থেকে আমরা ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। এঘটনায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * আতঙ্ক
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ