গরমে ঘুরতে যাওয়ার উপযুক্ত জায়গা

ভ্রমণ প্রতিবেদনঃ গরমে অনেকেই ঘুরতে বের হন না। কিন্তু গরমকাল আরামে কাটাতে ঘোরার বিকল্প নেই। দেশের অনেক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে যেগুলো গরমকালেও ঘোরার উপযুক্ত জায়গা-

 

গরমে স্বস্তিতে কাটাতে চাইলে দেশের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামটিতে কয়েকটি দিন কাটাতে পারেন। গ্রমাটির নাম ‘পানতুমাই’। জয়গাটির মূল বৈশিষ্ট্য পাহাড় ঘেঁষা আঁকাবাঁকা পথ। গ্রামের শেষে পাহাড়ি গুহা থেকে হরিণীর মতোই লীলায়িত উচ্ছল ভঙ্গিমায় ছুটে চলে ঝরনার জলরাশি। যেন রূপের মাধুরী তুলে ধরছে নিজস্বতায়। দূর থেকে দেখা মিলে শাঁ শাঁ শব্দে শুভ্র জলের এক নতুন অদ্ভুত অপ্সরীর। মেঘালয়ের গহীন অরণ্যের কোলে বাংলাদেশের পানে রূপের মাধুরী ফেলে অপরূপা এক জলপ্রপাত। সফেদ জলধারা লেপ্টে আছে সবুজ পাহাড়ের গায়। দেখলে মনে হবে সবুজের বুকে কেউ হয়তো বিছিয়ে রেখেছে সাদা শাড়ি।

 

পানতুমাই

মাইক্রোবাস ভাড়া করে সিলেট শহর থেকে পাংথুমাই পর্যন্ত যাওয়া যায়। গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ জলপ্রপাত এলাকায় মাইক্রোবাসের ভাড়া (যাওয়া ও আসা) পড়বে ২৫০০ টাকা। পাংথুমাইয়ে যাওয়া যায় দুটি রাস্তায়। একটি হচ্ছে গোয়াইনঘাটের সালুটিকর হয়ে আর অন্যটি জৈন্তাপুরের সারিঘাট হয়ে। উভয় রাস্তায় দূরত্ব ও ভাড়া সমান।

 

মনপুরা

গরমে নিরিবিলি ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় কাটাতে চাইলে আপনার গন্তব্য হতে পারে মনপুরা। শহরের বাইরে কম খরচে একটু দূরে নির্জনে কিছুটা সময় পার করতে চাইলে, একটা বোরিং উইকেন্ডের শেষে হুটহাট একটু ঘুরে আসতে ইচ্ছে হলে মনপুরা খুব একটা খারাপ জায়গা না। ইট-কাঠের শহরে ভোরের সূর্যোদয়ের স্নিগ্ধতা উপভোগ করার কোনো সুযোগ নেই। মনপুরায় আঁধার-কাটা আলোর সকাল দেখে সন্ধ্যায় সূর্যবিদায়ের রক্তিমক্ষণকেও খুব কাছাকাছি থেকে উপভোগ করা যাবে। তাছাড়া সাগরপাড়ে নির্জনে বসে একটা সন্ধ্যা পার করে দিলে খুব যে একটা খারাপ লাগবে তা নয়, বরং বিকেলের হিম হাওয়ায় মন দিল খারাপ থাকলে ভালো হয়ে যেতে পারে।

 

নির্জন মনপুরা

বিছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় লঞ্চ হচ্ছে মনপুরা দ্বীপে যাওয়ার একমাত্র বাহন। ঢাকার সদরঘাট থেকে এমভি ফারহান-৩ এবং ৪ নামে দু’টি লঞ্চ প্রতিদিন বিকেল ৫ টায় হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে সকাল ৭ টা থেকে ৭ টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মনপুরা দ্বীপে পৌঁছায়। লঞ্চ থেকে সূর্যোদয় দেখতে মোহনীয় লাগে। লঞ্চের ডেক চড়ে যেতে জনপ্রতি ৩৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। মনপুরা রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট থেকে দুপুর ২ টায় লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

 

 

 

শ্রীমঙ্গল

চায়ের জন্য বিখ্যাত শ্রীমঙ্গল উপজেলার অবস্থান সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায়। পাতা আর কুঁড়ির এই দেশ পাহাড় আর চা বাগানে ঘেরা আর সব সময়ই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক আদর্শ স্থান। পুরো উপজেলায় মোট চা বাগানের সংখ্যা ৪০টি। শ্রীমঙ্গলের উত্তর-পশ্চিম পাশে কিছু অংশ হাইল হাওর ছাড়া পুরোটা উপজেলাই চা বাগান দ্বারা আবৃত। আপনি যখন মাইলের পর মাইল চা বাগানের ভেতর দিয়ে যাবেন, তখন আপনার মনে হবে বিশ্বের সকল সৌন্দর্যরাশি যেন আপনার সম্মুখে। অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো হল- বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট, ৪০ টি চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও নির্মাই শিববাড়ী।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * গরম * পর্যটন কেন্দ্র
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ