শ্রীপুরের ঐতিহ্য মাটি তৈরী কোডা ঘর মাটির ঘরগুলো হারিয়ে যাচ্ছে 

 

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি ঃ সভ্যতার বেরা জালে হারিয়ে যাচ্ছে কোডা ঘর (স্থানীয় ভাষায় মাটির ঘরকে কোডা ঘর বলা হয়)। জানা যায়, অনেকদিন আগে থেকেই মাটির ঘরের প্রচলন আছে। কারিগরদের বেছে নেয়া জমির এঁটেল বা আঠালো মাটিকে কেটে তাতে পানি এবং পা দিয়ে মারিয়ে ছানা (দেয়াল তৈরির কাদা ) তৈরি করতে দশ থেকে পনেরো দিন রেখে দিতো। ছানা (দেয়াল তৈরির কাদা)  পরিণত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হতো।

একবারে পুরো দেয়াল  তৈরি করা হতো না । ২ফুট বা ৩ ফুট দেয়াল তৈরির পর তাদের বিশেষ ধরনের কাস্তে দিয়ে সমান করা হতো এবং মাঝ খান দিয়ে কেটে ফালি করা হতো। প্রতিটা স্তরেই এটা করা হতো। ফালি করার কারন হিসেবে তারা বলতো কোডা যেনো বেকে না যায়। এভাবে প্রায় ১০-১৫ ফুট উঁচু দেয়ালে

তোলা হতো। যারা ছনের ছাউনি দিতো তারা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড় দিতো আর যারা  টিনের ছাউনি দিতো তারা তাল কাঠের পার,কোর দিয়ে টিনের ছাউনি দেয়া হতো। মাটির ঘর অনেকে  দোতালা পর্যন্ত করতো যে ঘরটাকে স্থানিয়রা দেরদালা ঘর বলে। একটি ঘর তৈরি করতে কারিগরদের চার, পাঁচ মাসের অধিক সময় লাগতো। আর যারা ইকটু ধনী ছিলেন তারা কারিগর দিয়ে মাটির দেয়ালে উপরের অংশে বিভিন্ন রকমের নকশা করতেন।

৯০ এর দশকে অনেক মাটির ঘর দেখা যেতো । বিংশ শতাব্দিতে তা আজ বিলুপ্ত প্রায়। সভ্যতার বেরাজালে  মাটির ঘর ভালোবাসার কোডা ঘর দখল করে নিয়েছে ইট পাথরের দালান বা আধা পাকা টিন সেট বিল্ডিং। আজ বর্তমানে যাও যে কতক মাটির ঘর দেখা যায় তাও হয়তো ১০ বা ১৫ বছর আগে তৈরি । বর্তমানে মাটির ঘর তৈরির করার কারিগর পাওয়া প্রায় দুষ্কর। নতুন করে কেউ মাটির ঘর তৈরি না করায় যারা মাটির ঘর তৈরির করতো তারা অন্য কাজে যুক্ত হয়ে গেছেন। তাই নতুন করে হচ্ছে না মাটির ঘর  তৈরি করার কারিগর। যে কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের  এই ঐতিয্য।

আমাদের এই ঐতিহ্য  ধরে রাখা উচিত।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * ঐতিহ্য * কোডা ঘর * শ্রীপুর
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ