সুন্দরগঞ্জে বিকল্প জ্বালানি গোবরের লাঠি

 

 

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি  সুমিতা বালা নাম। বয়স ৪০ বছর। ২ সন্তানের মা হওয়ার পর স্বামী মারা যায়। অসহায় হয়ে পড়ে সুমিতা। ভিক্ষাবৃত্তি করতে নারাজ সে। সন্তানদের লালন পালন করার জন্য সংগ্রামী হয়ে ওঠে সুমিতা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার বাসিন্দা সুমিতা বালা। এলাকার বিভিন্ন বাঁশ ঝাঁড় থেকে শুকনা খড়ি সংগ্রহ করে  তা বাজারে বিকিয়ে এবং দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাতে থাকে। এরই এক পর্যায় পরিত্যক্ত জমি, গোচারণ ভূমি এবং রাস্তা-ঘাট থেকে গবর সংগ্রহ শুরু করে সুমিতা বালা। সেই গোবর দিয়ে তৈরি করত লাঠি। উপকরণ হিসেবে পাটকাঠি বা শুকনা কঞ্চি, গোবর ও পানির প্রয়োজন হয়। পাটকাঠির উপরে গোবরের আস্তর লাগিয়ে তা শুকানোর জন্য খাড়া করে রোদে দিতে হয়।

২ হতে ৩ দিন শুকানোর পর তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগি হয়ে ওঠে। প্রতিদিনের সংগ্রহ করা গোবর থেকে তৈরি হয় প্রায় ৫০টি লাঠি। পুঁজিহীন এই পেশা বা ব্যবসায় ঝুঁকে পড়ে সুমিতা বালা। এভাবে তৈরি করা লাঠি বিক্রি করতে শুরু করে শহরে এবং হাট-বাজারে। প্রতিটি লাঠি ৪ হতে ৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এতে করে তার সংসার ভালই চলতে থাকে। দীর্ঘ ১৬ বছরের এ পেশা বা ব্যবসায় সুমিতা বালা বর্তমানে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। দু-বেলা ভাত, পরণে কাপড় ছিল না তার। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছে। এখন ভালই চলছে তার সংসার, আর অভাব নাই।

ইতোমধ্যে ২ সন্তান বড় হয়েছে। তারাও দিন মজুরি এবং রিক্সা, ভ্যান চালিয়ে রোজগার করছে। সুমিতা বালার এ পেশা দেখে এখন উপজেলার কমপক্ষে ২০০ ভূমিহীন এবং দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারি পরিবার এ পেশা বা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অনেক পরিবারেই জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গোবরের লাঠি তৈরি করছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়া সব সময় তৈরি করা হয় এই গোবরের লাঠি। কথা হয় সুমিতা বালার সঙ্গে। তিনি বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি না করে আমি এ পেশা বেঁচে নিয়েছি। বর্তমানে আমি গোবরের লাঠি বিক্রি করে ভালোভাবে সংসার চালাচ্ছি। জ্বালানি চাহিদা মিটাতে সুন্দরগঞ্জে গোবরের লাঠি অত্যন্ত সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * গোবরের লাঠি * জ্বালানি * বিকল্প * সুন্দরগঞ্জ
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ