ভাতা আত্মসাতের প্রতিবাদ করায় রামগতিতে লাঞ্চিত করলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা

 

 

 

লক্ষীপুর প্রতিনিধি-লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদের বিরুদ্ধে এক সংখ্যালঘুর গায়ে হাত তোলা সহ তার জামার কলার ধরে ধাক্কা মেরে তাকে নানা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ শুনে হতভম্ব সচেতন মহল। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ টুমচর-চরআফজল এলাকার রমেশ চন্দ্র ধূপীর ছেলে অমর চন্দ্র দাসের সাথে। তিনি জানান,স্বর্গীয় সুন্দরী বালা ধূপী তার আপন দাদী। তিনি একজন তালিকাভুক্ত প্রকৃত বীরাঙ্গনা ছিলেন। বিগত প্রায় ৪০ বছর আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। একজন বীরঙ্গনা হিসেবে সরকার কর্তৃক সুযোগ সুবিধার কথা তারা মোটেও অবগত ছিলেননা। গত তিন বছর আগে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন যে সরকার বীরাঙ্গনাদেরকে ভাতা ও নানা সুবিধা দিয়ে আসছেন। এর পর তারা ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার দাবীদার হয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন,তার আপন দাদী স্বর্গীয় সুন্দরী বালা ধূপীর উত্তরাধিকারী হিসেবে তাদের পার্শ্ববর্তী এলাকার আলো রাণী দাস নামের এক প্রতারক মৃত বীরাঙ্গনা সুন্দরী বালা ধূপীর ওয়ারিশ পরিচয় দিয়ে গত তিন বছর যাবত বীরাঙ্গনা ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।

এ বিষয়ে অমর চন্দ্র দাস অভিযোগ দায়ের করতে যান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নিকট। সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ তাকে কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট বাজারে আসার জন্য বলেন। এতে অমর চন্দ্র দাস অপারগতা প্রকাশ করলে মাসুদ তাকে ফোনে কুত্তার বাচ্চা বলে নানা অশ্লীল মন্তব্য করেন। পরে কয়েকদিন আগে তিনি রামগতি উপজেলায় গেলে সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ তাকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে ঐ সংখ্যালঘুর জামার কলার ধরে ধাক্কা মেরে তার গায়ে হাত তুলেন, মারধর সহ নানা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এবং চাপ প্রয়োগ করে তার থেকে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করার চেষ্টাও করেন এই কর্মকর্তা। তে সংখ্যালঘু অমর চন্দ্র দাস জিবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে ফিরে আসেন বলে জানান এই প্রতিবেদককে। ভুক্তভোগী অমর চন্দ্র দাস বলেন,বীরাঙ্গনা বা মুক্তিযুদ্ধা ভাতা সমাজ সেবা অফিস থেকে হয়ে থাকে। এই জন্য আমি আমার মায়ের পক্ষ থেকে দাদীর ওয়ারিশ দাবীদার হয়ে বিষয়টি জানানোর জন্য সমাজ সেবা অফিসের কর্মকর্তার কাছে যাই । তিনি আমাকে বলে আপনার অভিযোগ মিথ্যা। আপনি এখন বলবেন যে আলো রাণী ধূপী বীরাঙ্গনা সুন্দরী বালার ওয়ারিশ। পারুল রানী দাস নয়। এই ভাবে জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে মিথ্যা বানোয়াট জবানবন্দি আদায় করার চেষ্টা করেন তিনি। আমি মিথ্যা জবানবন্দি দিতে রাজি না হওয়ায় সমাজ সেবা কর্মকর্তা আমার জামার কলার ধরে ধাক্কা মেরে মারধর সহ তিনি আমার গায়ে হাত তুলেন। এবং আমাকে কুত্তার বাচ্চা বলে নানা অশ্লীল মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে উপজেল সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * আত্মসাতে * উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা * প্রতিবাদ * ভাতা
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ