সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলের কৃষকরা জীবনের ঝুঁকি জেনেও তামাক চাষে আগ্রহী

 

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ

বিধি নিষেধ না মেনে জীবনের ঝুঁকি জেনেও তামাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে তিস্তা চরের কৃষকরা। অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় বিভিন্ন তামাক কোম্পানির নিকট স্বল্প লাভে এবং শর্ত সাপেক্ষে ঋণ নিয়ে তামাক চাষ করছে কৃষকরা। তামাকের নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করে নানাবিধ রোগে আক্রান্তের পরও থেমে নেই উপজেলার কমপক্ষে তিনশত জন কৃষকরা ও তামাক শ্রমিক। বিশেষ করে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাশিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তার বালু চরে ব্যাপক হারে তামাকের চাষাবাদ লক্ষ করা গেছে। গত ২ হতে ৪ বছর তামাকের চাষাবাদ তেমন নজরে আসে নেই। চলতি মৌসুমে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষাবাদ হয়েছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস হতে তামাক চাষের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

হরিপুর ইউনিয়নের চর মাদারিপাড়া গ্রামের তামাক চাষী আকবর আলী জানান, অল্প খরচে তামাক চাষাবাদে চারগুণ লাভ হয়। এক বিঘা জমিতে তামাক চাষাবাদে ৫ হতে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। যদি ফলন ভাল হয়, তাহলে এক বিঘা জমির তামাক ৫০ হতে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।  বর্তমান বাজারে প্রতিমন তামাক গ্রেড অনুয়ায়ী ৩ হাজার হতে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, বিভিন্ন তামাক কোম্পানি তামাক চাষাবাদের জন্য কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করছে। তামাক আবাদ করে, টাকা অথবা তামাক দিয়ে টাকা পরিশোধ করতে পারবে। বেলকা বাজারের তামাক শ্রমিক মোনারুল ইসলাম জানান, উপজেলায় কমপক্ষে ৩০০ জন তামাক শ্রমিক রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে তামাক পরিচর্যার কাজ করে আসছি। প্রতিদিন ওষুধ খেতে হয়। বেলকা বাজারের তামাক ব্যবসায়ী সেকেন্দার মিয়া জানান, জেলার বাহির থেকে বিভিন্ন মহাজন এসে তামাক ক্রয় করে নিয়ে যায়। তবে আগের চেয়ে এখন তামাকের চাষাবাদ অনেক কমেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার বিশ্বেশ্বর চন্দ্র বর্মণ জানান, তামাকের নিকোটিন মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে পেটের পীড়া, চুলকানি, গ্যাস্টিক, আলসার, চর্মরোগসহ নানাবিধ জটিল কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই তামাক সেবনকারী এবং তামাক থেকে দুরে থাকা উচিত। উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, তামাক চাষাবাদ এখন অনেক কমে গেছে। কৃষি অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ কৃষকদের মাঝে তামাক চাষাবাদে নিরুৎসায়ী করছে। তবে চরের কিছু সংখ্যক কৃষক তামাক চাষাবাদ করে আসছে। আশা করা যাচ্ছে আল্প সময়ের মধ্যে উপজেলায় তামাক চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে।

 

 

 

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ