বাবা-ছেলে কর্তৃক একই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

 

 

 

এম সাইফুল ইসলাম , বরগুনা:

 

বরগুনা সাবেক এক আওয়ামীলীগ নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন বরগুনা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের নুরুল ইসলাম (৫০) ও তার ছেলে আরিফ হোসেন (২৩)। নুরুল ইসলাম বরগুনা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার সুত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা নেই, তার মা শহরে ঘুরে ঘুরে সবজি বিক্রি করেন। এজন্য সারাক্ষণ একাই বাসায় থাকতো ওই কিশোরী। এরপর প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের ছোট মেয়ের সাথে পরিচয় হলে তাদের বাসায় আসা যাওয়া করত ওই কিশোরী। তাদের বাসার টুকটাক কাজও করতো।

একদিন ওই কিশোরী নুরুল ইসলামের বাসায় আসলে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে নুরুল ইসলাম। বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয় এজন্য তাকে ভয় দেখায় নুরুল ইসলাম। এর কয়েকদিন পরে নুরুল ইসলামের ছেলে আরিফ হোসেন নুরুল ইসলামের ঘটনাটা নিয়ে কিশোরীকে ব্ল্যাকমেইল করে কয়েকবার ধর্ষন করে। এরপর কিশোরী অন্ত্বঃসত্যা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করলে তিনি বরগুনা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি টিম পাঠিয়ে সোমবার(৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টায় প্রথমে নুর ইসলামকে থানায় ধরে আনে। এর আধা ঘন্টা পরে তার ছেলে আরিফকে ধরে আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, কাজের প্রয়োজনে সারাক্ষণ বাহিরে থাকতে হয়। একারনে আমার মেয়ে প্রায় সময়ই নুর ইসলামের ছোট মেয়ের সাথে তাদের বাসায় থাকত। আমার মেয়েকে দিয়ে তারা কাজও করাতো। কিন্তু তারা যে আমার মেয়ের এতো বড় সর্বনাশ করবে কখনোই ভাবিনি, বুঝতে পারলে আমি মেয়েকে ওদের সাথে মিশতে দিতাম না। নুর ইসলাম আমার থেকেও বয়সে অনেক বড়। সে আমার ছোট মেয়েটার দিকে কু-নজর দিতে পারে না। আমার মেয়ের এ অবস্থা যে করছে আমি তার কঠিন বিচার চাই।

ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন,  নুর ইসলামকে আমি খালু ডাকতাম। তার মেয়ে আমার বান্ধবী ছিলো। তবে অনেক সময় খালু আমার দিকে কেমন করে যেন চেয়ে থাকত। সে আমাকে ভয় দেখিয়ে এসব করছে। খালু বারবার বলতো তুই যদি এসব না করো তাহলে তোদের এলাকা ছাড়া করবো।  পরে একদিন তার ছেলে  আরিফ ভাইয়া বলে তুই  যা করছো তা কিন্তু আমি জানি। এখন আমার সাথে না করলে সবাইকে বলে দিবো। এসব বলে সে আমাকে চেপে ধরে। এরকম আরও দুইদিন হইছে।

এ বিষয়ে বরগুনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই থানায় ধরে আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবতী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * অভিযোগ * কিশোরীকে ধর্ষণের * বরগুনা
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ