সাকিবের ব্যাটের লড়াইয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

          
এক ম্যাচ বাকি থাকতে ২৪১ রান তাড়া করে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ৫ বল বাকি রেখেই ৩ উইকেট জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টাইগাররা।

নিয়মিত উইকেট হারিয়ে চাপে থাকা দলকে অষ্টম উইকেটে দারুণ এক জুটি গড়েন দুই অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখা এই জুটির পঞ্চাশ এসেছে ৫৩ বলে।

সাকিবের বীরত্বে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে তিন উইকেটে জিতে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। দশম ওভারে ক্রিজে যাওয়ার পর বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান দেখেছেন একের পর এক সঙ্গীর বিদায়। তাতে দিশেহারা হয়ে যাননি, ঠাণ্ডা মাথায় এগিয়ে নিয়েছেন দলকে। ফিফটির পথে মেরেছেন ছয়টি চার। ১০৯ বলে ৯৬ রানের অপরাজিত সাকিব। অন্যপ্রান্ত থেকে সাইফ উদ্দিনের সংগ্রহ ৩৪ বলে ২৮ রান। অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেটে ৬৯ রানের জুটিতে দলকে ৩ উইকেটের জয় এনে দেন সাকিব ও সাইফ। জিম্বাবুয়ের ২৪০ রান বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যায় পাঁচ বল বাকি থাকতে।

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের দেয়া ২৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারী বাংলাদেশ। রান রেটের চাপ খুব বেশি ছিল না। সাবধানেই খেলছিলেন দুই ওপেনার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। তাদের ব্যাটে উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লে কাটিয়ে দিচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দশম ওভারে সিকান্দার রাজার চমৎকার ক্যাচে ফিরেন তামিম।

দশম ওভারে তামিমকে থামান লুক জঙ্গুয়ে। পয়েন্টে ডাইভ দিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়কের ক্যাচ মুঠোয় জমান রাজা। ভাঙে ৩৯ রানের জুটি। ৩৪ বলে চারটি চারে ২০ রান করেন তামিম।

এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন দাস। রিচার্ড এনগারাভাকে পুল করে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় ব্রেন্ডন টেইলর মুঠোয় ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন এই ওপেনার। চারটি চারে ৩৩ বলে ২১ রান করেন লিটন। থিতু হয়েও দুই ওপেনার পারেনি ইনিংস বড় করতে। ১৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর তখন ২ উইকেটে ৪৬।

প্রথম ম্যাচের মতোই ভুল করেন মোহাম্মদ মিঠুন। এবার ফিরলেন আলগা শটে ক্যাচে দিয়ে। অফ স্টাম্পের বাইরে লুক জঙ্গুয়ের গুড লেংথ বল আয়েশী শট খেলে আউট হোন মিঠুন। কাভার থেকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ মুঠোয় জমালেন ওয়েসলি মাধেভেরে।

১৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ৫০। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী হোন মোসাদ্দেক হোসেন।কিন্তু মোসাদ্দেকও বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। মাত্র ৫ রানে রান আউট হয়ে ফেরেন মোসাদ্দেক।৩৫ বলে তিন চারে ২৬ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। এরপরে ১৫ বলে ৬ রান করে ফেরেন মিরাজ। ২৩ বলে ১৫ রান করেন আফিফ। আফিফের পর সাকিবকে সঙ্গ দিতে মাঠে আসেন সাইফ। অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেটে ৬৯ রানের জুটিতে দলকে ৩ উইকেটের জয় এনে দেন সাকিব ও সাইফ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়েকে ২৪০ রানে থামায় বাংলাদেশ। নিয়মিত উইকেট হারিয়ে ৯ উইকেটে ২৪০ রান করে স্বাগতিকরা।জিম্বাবুয়ের ইনিংসে ফিফটি একটি, ওয়েসলি মাধেভেরে করেন ক্যারিয়ার সেরা ৫৬ রান। পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি কেবল একটি, মাধেভেরের সঙ্গে সিকান্দার রাজার ৬৩।

ব্রেন্ডন টেইলর, ডিওন মায়ার্স ও রেজিস চাকাভা থিতু হয়েও বড় করতে পারেননি ইনিংস। দুইবার জীবন পেয়েও ১৩ রানে থামেন ওপেনার টাডিওয়ানাশে মারুমানি।
মুস্তাফিজুর রহমানের চোটে এই ম্যাচেও সুযোগ পাওয়া শরিফুল ইসলাম ৪ উইকেট নেন ৪৬ রানে। আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেয়া সাকিব ২ উইকেট নেন ৪২ রানে। দারুণ বোলিংয়ে ৩৮ রানে তাসকিন আহমেদের শিকার একটি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন