বগুড়ায় উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহকারী সরঞ্জাম  সংকটে ১৩ ঘন্টায় মারা গেল ৭জন

 

 

বগুড়ায় করোনা বিশেষায়িত সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা নামে উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহকারী সরঞ্জাম সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার ( জুলাই) রাত ৮টা থেকে শুক্রবার ( জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৩ ঘণ্টায় জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও অন্তত ১০ জনের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় মারা গেছে ১৩ জন, আক্রান্ত ১০০।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০ শয্যার ওই করোনা হাসপাতালে শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ২২৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। যাদের অধিকাংশেরই উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালটিতে বর্তমানে মাত্র দু’টি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা থাকায় দু’জনের অতিরিক্ত আর কোনো রোগীকে উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন (রক্তে ঘনীভুত অক্সিজেনের মাত্রা) ৮৭ এর নিচে তাদের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

বগুড়ার ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে ২০২০ সালের মার্চের শেষ দিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়। তখন সেখানে সিলিন্ডার দিয়ে করোনা রোগীদের অক্সিজেন দেওয়া হতো। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়লে একই বছরের জুনের শেষ দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহের সুবিধাযুক্ত ৫০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করা হয়। পরবর্তীতে শজিমেক হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৩টি (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) আইসিইউসহ ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু সেখানেও রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চলতি বছরের এপ্রিলে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ চালু করা হয়।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার তিন হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্টে থাকা রোগীদের জন্য হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা আছে মোট ২৩টি। এর মধ্যে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ২টি, শজিমেক হাসপাতালে ১১টি এবং বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০টি।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিক আমিন কাজল জানান, হাসপাতালটিতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ চালু হলেও সবগুলো শয্যায় উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা যুক্ত করা হয়নি। এমনকি ৮ শয্যা নিয়ে চালু করা আইসিইউ ইউনিটেরও মাত্র ২টিতে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা রয়েছে। ফলে পুরো হাসপাতালের মধ্যে আইসিইউ ইউনিটের ওই দুটি শয্যায় কেবল উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সররবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। অক্সিজেন সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানকার করোনা ইউনিটে ৮৭টি সাধারণ শয্যা, ৮টি আইসিইউ শয্যা ও ৫টি এইচডি ইউনিটসহ মোট ১০০টি শয্যা রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন শতাধিক রোগী।

হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি সিংহভাগ রোগীকেই অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। অথচ গোটা হাসপাতালে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা আছে মাত্র ১২টি। ২৭ জুন আইসিইউ ওয়ার্ডের একটি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা বিস্ফোরিত হওয়ার পর থেকে বিকল রয়েছে। এখন ১১টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা দিয়ে শতাধিক রোগীর সেবা দিতে হচ্ছে।

বগুড়ার সিভিল সার্জন গউসুল আজিম চৌধুরী বলেন, গত বছর মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে করোনা বিশেষায়িত ঘোষণা করার সময় আইসিইউ ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা কোনাটাই ছিল না। পরে ৮ শয্যার আইসিইউ চালু করা হয়। কিন্তু হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার বরাদ্দ মিলেছে মাত্র দুটি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা বরাদ্দ চেয়ে দফায় দফায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো বরাদ্দ মেলেনি।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন