মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

                                                                                             জেনারেল আজিজ আহমেদফাইল ছবি

মালদ্বীপে সরকারি সফর শেষে সোমবার সকালে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। মালদ্বীপের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ শামালের আমন্ত্রণে গত ২ জুন তিনি দেশটিতে পৌঁছান। সফরকালে তিনি সেখানকার চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স ছাড়াও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

জেনারেল আজিজ মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারিয়া আহমেদ দিদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার দেশের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রত্যুত্তরে জেনারেল আজিজ আহমেদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান।

বৈঠকে মারিয়া আহমেদ দিদি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটি কীভাবে উপকৃত হতে পারে সেই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। পরে জেনারেল আজিজ মালদ্বীপ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ শামালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সভায় যোগ দেন। আবদুল্লাহ শামাল করোনা মহামারি চলাকালে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি মেডিকেল দলকে মালদ্বীপে পাঠানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান বলেন, বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমাদের সেনাবাহিনী কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুধু দেশ নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন ইউএন মিশন এলাকার দেশ এবং কুয়েতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ দল মালদ্বীপের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

 

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ (এএফএমসি) ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ (এমআইএসটি) উচ্চতর বিভিন্ন সামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মালদ্বীপের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণে পাঠানোর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ মালদ্বীপ ডিফেন্স ফোর্সের সঙ্গে কাউন্টার টেররিজম বিষয়ক যৌথ অনুশীলন পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করেন, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের সঙ্গে পরিচালনা করে আসছে।

বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় জানা যায়, মালদ্বীপ সরকার তাদের ‘কাধহো’ দ্বীপে উল্লেখযোগ্য সুবিধাসহ একটি এয়ারস্ট্রিপ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বর্তমান সফরে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছে। এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্মাণ সহায়তা প্রদানের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে জেনারেল আজিজ মনে করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনে বাংলাদেশের শিপিং লাইনগুলো পূর্ণ সহায়তা দিতে সক্ষম। তবে এ বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা ও সফরের প্রয়োজন রয়েছে।

পরে জেনারেল আজিজ মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যান। সেখানে তিনি হাইকমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মালদ্বীপ সফরে জেনারেল আজিজ ৯ সদস্যের একটি দলের নেতৃত্ব দেন। আইএসপিআর।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন